Sunday 26 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কাউকে ভালো লাগলেও যখন সম্পর্কে জড়ানো অসম্ভব

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৬ জুলাই ২০২৬ ১৭:০০

মানুষের মন কখন কার প্রতি দুর্বল হবে, তা আগে থেকে নির্ধারণ করা যায় না। অনেক সময় এমন কোনো মানুষের প্রতি তীব্র ভালোলাগা তৈরি হয়, যার সাথে কোনো সামাজিক, পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কারণে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। এই ধরনের পরিস্থিতি মানসিক দ্বন্দ্বে ফেলে দেয় এবং ভেতরে ভেতরে এক ধরনের নীরব কষ্টের জন্ম দেয়। ভালোলাগার অনুভূতিকে জোর করে মুছে ফেলা যায় না, তবে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে নিজেকে সামলে নেওয়া পুরোপুরি সম্ভব। যখন আপনি বুঝতে পারবেন যে এই ভালোলাগা পূর্ণতা পাওয়ার নয়, তখন নিজের মানসিক শান্তি ও সুস্থতার জন্য কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

বাস্তবতার মুখোমুখি

প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো আবেগকে একপাশে সরিয়ে রেখে বাস্তবতাকে পুরোপুরি স্বীকার করে নেওয়া। মনকে বোঝাতে হবে যে কেন এই সম্পর্কটি হওয়া সম্ভব নয় এবং এর ভবিষ্যৎ কী হতে পারে। অবাস্তব কোনো আশার পেছনে ছুটে নিজের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। যখন আপনি নিজের মনের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবেন যে এই অনুভূতির কোনো গন্তব্য নেই, তখন মন ধীরে ধীরে শান্ত হতে শুরু করবে। বাস্তবতাকে এড়িয়ে না গিয়ে বরং তার মুখোমুখি হওয়া আপনাকে এই মানসিক টানাপোড়েন থেকে দ্রুত বের হয়ে আসতে সাহায্য করবে।

দূরত্ব বজায়

ভালোবাসার মানুষকে প্রতিনিয়ত চোখের সামনে দেখলে বা তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলে ভালোলাগার অনুভূতি আরও তীব্র হতে থাকে। তাই নিজেকে সামলাতে হলে সাময়িকভাবে হলেও কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কর্মকাণ্ড দেখা বন্ধ করা বা সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়া এক্ষেত্রে ভালো কাজ করে। একে বলা যেতে পারে এক ধরনের নীরব আত্মরক্ষা, যা আপনার মনকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে। দূরত্ব বজায় রাখলে অবচেতন মন ধীরে ধীরে সেই মানুষটির চিন্তা থেকে দূরে সরতে শুরু করে।

আবেগের প্রকাশ

নিজের অনুভূতিগুলোকে মনের ভেতরে চেপে রাখলে তা একসময় মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই নিজের ভেতরের এই না-বলা কথাগুলো কোনো বিশ্বস্ত বন্ধুর সাথে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে, যিনি আপনাকে বিচার না করে মন দিয়ে শুনবেন। যদি তেমন কাউকে না পাওয়া যায়, তবে একটি ডায়েরিতে নিজের সব অনুভূতি লিখে ফেলা যায়। মনের কথা কাগজে লিখে ফেললে মনের ভেতরের জমাট বাঁধা মেঘ অনেকটাই হালকা হয়ে যায়। নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে তা প্রকাশ করা মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি প্রক্রিয়া।

মনোযোগ বদল

মনকে যখন আপনি কোনো কাজে ব্যস্ত রাখবেন না, তখন তা বারবার সেই অসম্ভব ভালোলাগার দিকেই ছুটে যাবে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজের পেশাগত কাজ, পড়াশোনা বা শখের জায়গাগুলোতে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া উচিত। নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন, বই পড়া, বাগান করা কিংবা নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস আপনাকে অন্য এক জগতে ব্যস্ত রাখবে। যখন আপনার মস্তিষ্ক নতুন এবং গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত থাকবে, তখন পুরনো ভালোলাগার তীব্রতা এমনিতেই আস্তে আস্তে কমে আসবে এবং আপনি নিজের জীবনের ওপর নতুন করে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবেন।

নিজের যত্ন

যেকোনো মানসিক লড়াইয়ে জয়ী হতে হলে সবার আগে নিজেকে ভালোবাসতে হবে এবং নিজের যত্ন নিতে হবে। কারো সাথে সম্পর্কে জড়ানো সম্ভব হচ্ছে না বলে নিজের জীবনকে থমকে দেওয়া বা নিজেকে অবহেলা করা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমানো এবং নিজের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের যত্ন নেওয়া এই সময়ে অত্যন্ত প্রয়োজন। নিজেকে ভালো রাখার দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনার নিজের, আর যখন আপনি নিজেকে ভালোবাসতে শুরু করবেন, তখন অন্য যেকোনো অপূর্ণ ভালোলাগা আপনার জীবনের চেয়ে বড় মনে হবে না।

বিজ্ঞাপন

ভারতের সেরা ৫টি সৈকত
২৬ জুলাই ২০২৬ ১৭:৩৮

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর