Monday 17 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দাম্পত্য কলহে পুরুষের নীরবতার লক্ষণ কি?

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৭ আগস্ট ২০২৬ ১৭:৪৪ | আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১৮:০৮

ঘরের নীরবতা কখনো কখনো চিৎকার করে ওঠা শব্দের চেয়েও অনেক বেশি ভারী হয়ে ওঠে। স্বামী-স্ত্রীর সাধারণ এক টুকরো বাকবিতণ্ডার পর হঠাৎ করেই স্বামী যখন একেবারেই চুপ মেরে যান, তখন সেই নিস্তব্ধতা স্ত্রীর মনে এক গভীর অনিশ্চয়তা আর কষ্টের জন্ম দেয়। এই নীরবতাকে অনেকেই উদাসীনতা, ভালোবাসার অভাব কিংবা অবহেলা বলে ভেবে বসেন। কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক গবেষণার গভীর আলো ফেললে দেখা যায়, এই পাথরের মতো নীরবতার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে পুরুষ মস্তিষ্কের এক অনন্য আত্মরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া।

মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এবং মানসিক চাপ

ঝগড়া বা অতিরিক্ত উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে পুরুষের মস্তিষ্ক খুব দ্রুত অতি-উত্তেজিত বা মানসিক চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। শারীরবৃত্তীয় এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ফাইট অর ফ্লাইট প্রতিক্রিয়া বলা হয়ে থাকে। স্ত্রীর আবেগপ্রবণ যুক্তি বা রাগের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অনেক পুরুষই বুঝে উঠতে পারেন না কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন। তখন তাদের মস্তিষ্ক আরও বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে কিংবা রাগের মাথায় ভুল কিছু বলে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পেতে নীরবতার এক অদৃশ্য দেয়াল তুলে ধরে।

বিজ্ঞাপন

আত্মরক্ষা এবং সংঘাত এড়ানোর এক নীরব উপায়

বাইরে থেকে এই নীরব আচরণকে কঠোর মনে হলেও এটি মূলত একটি অবচেতন আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। পুরুষরা ভাবেন যে কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ কাটিয়ে দিলে সময়ের সাথে সাথে উত্তাপ কমে যাবে এবং বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে। তবে এই না বলা শব্দগুলোই স্ত্রীর মনে নতুন সন্দেহের বীজ বুনে দেয়। স্ত্রী ভাবেন সঙ্গী হয়তো তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, অথচ পুরুষটির মনের ভেতরে তখন হয়তো নিজের ভেতরের প্রবল আবেগের তোড় সামলানোর এক নীরব যুদ্ধ চলতে থাকে।

পরিস্থিতি সামলাতে ইতিবাচক মানসিক দূরত্ব

সঙ্গী হঠাৎ চুপ হয়ে গেলে সেই মুহূর্তে তাকে জোর করে কথা বলাতে বাধ্য করা একেবারেই উচিত নয়। তাকে কিছুটা সময় একা থাকতে দেওয়া এবং তার নিজস্ব মানসিক স্থিতি ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া বেশ কার্যকর। যখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত হবে, তখন দুজন মিলে সেই বিষয় নিয়ে কথা বলুন। রাগের মাথায় নীরব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি যে আপনার মনে কষ্ট দিচ্ছে, তা অত্যন্ত শান্তভাবে তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে, যেন তিনি নিজের ভেতরের অনুভূতিগুলো প্রকাশের এক নিরাপদ পরিবেশ খুঁজে পান।

নীরবতা যেন দুটি হৃদয়ের মাঝখানে কোনো স্থায়ী প্রাচীর গড়ে তুলতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। কারণ অনুভূতির এই না বলা ভাষাকে বুঝতে পারলেই সম্পর্কের দূরত্ব মুছে গিয়ে আবার ভালোবাসার নতুন আলো ফুটে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর