Monday 17 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

টাঙ্গাইলে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ১০৬৩ সিসি ক্যামেরা স্থাপন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪০

টাঙ্গাইল: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার ৮টি আসনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ১ হাজার ৬৩টি ভোট কেন্দ্রে সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা স্থাপন করেছে জেলা প্রশাসন।

এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভোটের দিন যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং ভোট জালিয়াতি রোধে পুরো জেলা জুড়ে দুই হাজার ৩৬০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, প্রতিটি বুথ ও ভোটকেন্দ্রের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখা। ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল বা যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধ করা সম্ভব হবে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি এই সিসি ক্যামেরা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন টাঙ্গাইলের সাধারণ ভোটাররা।

বিজ্ঞাপন

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাগেছে, জেলার ৮টি আসনে মোট ভোটার ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার প্রয়োগ নির্বিঘ্ন করতে জেলাজুড়ে এক হাজার ৬৩টি ভোটকেন্দ্রের ৬ হাজার ৩৪১টি বুথ(কক্ষ) প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬০টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ৯০৩টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের দিন রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে এই ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি কোনো কেন্দ্রে গোলযোগ, অনিয়ম বা পেশিশক্তির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়- তবে সিসি ক্যামেরার প্রমাণের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলার ৮টি আসনে এক হাজার ৬৩টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৬ হাজার ৩৪১টি ভোট কক্ষ বা বুথ রয়েছে। ভোটারদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩০ জন এবং নারী ভোটার ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২৫ জন। বিপুল সংখ্যক এই ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।এ সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মোট ৬ হাজার ৩৪১টি ভোট বুথের প্রতিটিতে এবং কেন্দ্রের প্রবেশপথে এসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে- যা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

স্থানীয় ভোটাররা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের মতে, সিসি ক্যামেরা থাকায় কেন্দ্র দখল বা জাল ভোটের ভয় অনেকটাই কমে যাবে। অন্যদিকে, রিটার্নিং অফিসার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকে বলা হচ্ছে প্রযুক্তির এই ব্যবহার কেবল অপরাধ দমন নয় বরং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতেও মাইলফলক হয়ে থাকবে।

জেলা রিটার্নিং অফিসার শরীফা হকের কাজে সহায়তাকারী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি কেন্দ্রের পরিস্থিতি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি কোনো কেন্দ্রে গোলযোগ বা অনিয়মের আভাস পাওয়া যায়, তবে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি প্রয়োজনে ভোট গ্রহণ স্থগিত করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর