রাজবাড়ী: রাজবাড়ী সদর উপজেলার সদর খাদ্য গুদামের সামনে ময়লার ভাগাড় থেকে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নবজাতকের বাবা অভিযোগ করেছেন, দাফনের দায়িত্ব নিয়ে তার মামা শ্বশুর মরদেহটি ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সদর খাদ্য গুদামের সামনের ময়লার ভাগাড় থেকে নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় টোকাই হাবিবুর রহমান জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে ময়লার ভাগাড়ে বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগের ভেতরের জিনিসপত্র বের করার সময় কাপড়ে মোড়ানো একটি নবজাতকের মরদেহ দেখতে পেয়ে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা পুলিশে খবর দেন।
মরদেহ পাওয়া নবজাতকের বাবা মাসুদুর রহমান বলেন, আমার বাড়ি পাবনা জেলায়। গত কয়েকদিন আগে রাজবাড়ী শহরের ২ নম্বর বেড়াডাঙ্গায় নানা শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে আসি। বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার পর রাজবাড়ী শহরের একটি ক্লিনিকে তার স্ত্রী মৃত নবজাতকের জন্ম দেন। সন্তান হারানোর শোকে ভেঙে পড়লে দাফনের বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। এ সময় তার মামা শ্বশুর নবজাতককে দাফনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলে মরদেহটি নিয়ে যান। দাফনের খরচ বাবদ তিনি তার হাতে ১৫০০ টাকাও তুলে দেন।
মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমি নিজেও সঙ্গে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বলেন, আমার মানসিক অবস্থা ভালো নয়, তাই আমাকে যেতে হবে না। পরে ফিরে এসে জানান, শিশুটিকে দাফন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পারি যে ময়লার ভাগাড়ে একটি নবজাতকের মরদেহ পাওয়া গেছে। দেখি যে সেটা আমার বাচ্চা। এরপর আমি সেখানে ছুটে যাই। ময়লার ভাগাড়ে আমার বাচ্চা দেখে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি দাফনের জন্য আমার মামা শ্বশুরের কাছে দিয়েছিলাম, সে কি করে এই বাটপারি করল? আমি এর বিচার চাই। আর আমার বাচ্চাকে আমি নিজে দাফন করব।’
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টায় খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়লার ভাগাড়ে একটি ব্যাগে পুরোনো কাপড়ে মোড়ানো ছিল নবজাতক শিশুটি। নবজাতকটির পরিবারের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।’