Wednesday 22 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কাজ শুরুর আগেই ধসে গেল কোটি টাকার সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ জুলাই ২০২৬ ১৭:১২

ভারীতে বৃষ্টিতে সড়কের বড় একটি অংশ ধসে গেছে।

মানিকগঞ্জ: এক বছরেরও বেশি আগে কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। ঠিকাদারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে একটি ইটও বসানো হয়নি। এরই মধ্যে টানা বর্ষণে ধসে পড়েছে মানিকগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সেওতা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। প্রায় ২৫০ ফুট সড়ক ভেঙে যাওয়ায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল। ঝুঁকির মুখে পড়েছে সড়কের পাশের বসতবাড়ি, আর চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, উত্তর সেওতা এলাকার বাসিন্দাদের শহরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সংযোগ ছিল এই সড়ক। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই পথ ব্যবহার করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, শহরের বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতেন। কিন্তু সড়কের বড় একটি অংশ ধসে পড়ায় এখন দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময়, খরচ এবং দুর্ভোগ সবই বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ইমপ্রুভিং আরবান গভর্নেন্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট (আইইউজিআইপি)-এর আওতায় তাজু রোডের কাজী টিপুর বাড়ি থেকে আইআরপি হয়ে কাঁচাবাজার পর্যন্ত প্রায় ৫৩৮ মিটার সড়ক ইউনিব্লক পেভার দিয়ে উন্নয়ন, ১৭৫ মিটার ব্রিক প্যালিসেডিং নির্মাণ এবং ১৮টি স্ট্রিট লাইট স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়। একই সঙ্গে পৃথক আরেকটি প্রকল্পে ১৫৮ মিটার আরসিসি পাইপ ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়, যাতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা কমানো যায়। দুটি প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪১ হাজার ২৯৮ টাকা।

তদন্তে জানা গেছে, প্রকল্প দুটির কার্যাদেশ ও চুক্তি সম্পন্ন হয় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। কাজ শেষ করার সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় তিন মাস পরও মাঠপর্যায়ে কোনো কাজ শুরু হয়নি। ফলে সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা সড়কটি বর্ষার পানিতে ধসে পড়ে জনদুর্ভোগের নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পটির কাজ পেয়েছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এ ইঞ্জিনিয়ারিং-সামস ইঞ্জিনিয়ার জেভি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক আনসারী বলেন, ‘এই রাস্তাটি আমাদের এলাকার প্রধান চলাচলের পথ। পাঁচ-ছয় দিন ধরে রাস্তা ভেঙে পড়ে আছে। এখন পর্যন্ত কেউ মেরামত করতে আসেনি। কোটি টাকার প্রকল্প হয়েছে শুনেছি, কিন্তু কাজের কোনো অগ্রগতি নেই।’

তানজিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রতিদিন সন্তানকে স্কুলে নিয়ে এই রাস্তা ব্যবহার করতাম। এখন অনেক ঘুরে যেতে হচ্ছে। রাতে চলাচল করতে ভয় লাগে। রাস্তার পাশের বাড়িগুলোও ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা চাই দ্রুত রাস্তা ও ড্রেনের কাজ শুরু হোক।’

মোটরসাইকেল চালক রাশেদুর রহমান বলেন, ‘আগে এই পথ দিয়ে শহরে যাওয়া খুব সহজ ছিল। এখন রাস্তা বন্ধ থাকায় অনেকটা ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। অনেকেই এসে আবার ফিরে যাচ্ছেন।’

মানোয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকার বরাদ্দ দিয়েছে, ঠিকাদারও নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু এক বছরের বেশি সময়েও কাজ শুরু হয়নি। এখন রাস্তা ধসে মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. সোহাগ বলেন, ‘আমাদের সড়কটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না। আপনারা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেন।’

মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই সড়কের প্রকল্প এক বছর আগে অনুমোদন হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজ শুরু হয়নি। তারা দ্রুত কাজ শুরু না করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে।’

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘসূত্রতার কারণে একটি উন্নয়ন প্রকল্প এখন জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বর্ষা আরও বাড়ার আগে দ্রুত কাজ শুরু না হলে সড়কের ক্ষতি যেমন বাড়বে, তেমনি আশপাশের বসতবাড়িও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সারাবাংলা/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর