Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সড়ক নয় যেন মরণ ফাঁদ, মুক্তি মিলবে কবে?

রেজাউল ইসলাম তুরান, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৭ আগস্ট ২০২৬ ০৮:১৩ | আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১২:৩৩

খুলনার রাস্তার বেহলা দশা। ছবি: সারাবাংলা

খুলনা: বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা খুলনা। কেউ কেউ এই জেলাকে শিল্পনগরীও ডাকে। তবে খুলনা বিখ্যাত সুন্দরবনের কারণে। এ ছাড়া খুলনার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পশুর নদীর তীরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা অবস্থিত। যার কারণে খুলনাকে দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দর নগরীও বলা হয়ে থাকে। অর্থনৈতিকভাবে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। কিন্তু এই শহরের রাস্তাঘাট দেখলে মনে হয় না এককালে এই নগরীর জৌলুশ ছিল। বর্তমানে খুলনা মহানগরী ও রূপসা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি সড়ক বর্তমানে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কজুড়ে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জমে থাকছে পানি। এরই মধ্যে দু’টি সড়কের পাথর ও পিচ উঠে গেছে। ফলে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়ক

রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের রূপসা খেয়াঘাটের পূর্বপারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ও বীর বিক্রম মহিবুল্লাহর সমাধি কমপ্লেক্সের ঠিক পাশ দিয়ে রূপসা সেতুর দিকে চলে গেছে সড়কটি। প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক জুড়ে অসংখ্য খানা-খন্দ। বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের নামের এই সড়কটি প্রায় ২২ বছর আগে নির্মাণ করা হয়। তবে সেটি দীর্ঘ আট বছর ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কের বেশির ভাগ জায়গায় পিচের চিহ্নমাত্র নেই, নেই খোয়া, বেরিয়ে এসেছে মাটি। সড়কটিতে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে। এতে সড়ক দিয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ এলাকার হাজার হাজার মানুষের। এ কারণে প্রায়েই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

সড়কটির দুই পাশে ছোট-বড় অসংখ্য শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে দেশের অন্যতম রফতানি খাত চিংড়ি হিমায়িত করে প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রায় ১৭টি কারখানা, বরফকল, মাছের অসংখ্য ডিপো, তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোস্টগার্ড কার্যালয়সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। চর রূপসা, বাগমারা, জাবুসা এলাকার মানুষ যাতায়াতের জন্য সড়কটি ব্যবহার করে। সড়কের পাশের বিভিন্ন কোম্পানির কয়েক হাজার শ্রমিক ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন।

কর্ণপুর-ইলাইপুর সড়ক

রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের কর্ণপুর থেকে ইলাইপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানের পাথর ও পিচ উঠে গেছে। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কাঁচা সড়ক, নাকি পাকা! এমন বেহাল দশায় জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ। মাত্র দুই কিলোমিটার সড়কের কারণে এখন ভুগতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষকে।

থানার মোড়-আলাইপুর সড়ক

রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের থানার মোড় থেকে কাঁঠালতলা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কটির পাশে রয়েছে উপজেলা রেজিস্ট্রি অফিস, সমাজসেবা অফিস, পোস্ট অফিস, দলিল লেখকদের কার্যালয় ও দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ব্যস্ততম এই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, সড়কটিতে নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। যে কারণে বছর না যেতেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

খুলনার রাস্তার বেহলা দশা। ছবি: সারাবাংলা

খুলনার রাস্তার বেহলা দশা। ছবি: সারাবাংলা

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক

নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে খানজাহান আলী (রূপসা) সেতু পর্যন্ত শিপইয়ার্ড সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ ১৪ বছরেও শেষ হয়নি। তিন দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো যাত্রী, শিক্ষার্থী ও পরিবহণ চালককে। প্রায় ৩ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে রূপসা সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের অবস্থা বেশ নাজুক। সড়কের দুই পাশে রয়েছে অন্তত ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অসংখ্য চালকল ও কাঠের গোলা। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি।

সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়ক

খুলনা নগরীর অন্যতম প্রবেশদ্বার সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কটি বর্তমানে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ও মানুষ এই সড়ক দিয়ে নগরীতে প্রবেশ করেন। ২০১৩ সালে সিটি বাইপাস সড়কটি নির্মাণ করে কেডিএ। তবে দীর্ঘ ১৩ বছর সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বেহাল দশা। এটি এখন নগরবাসীর দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। এই সড়কটিতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে রাতের বেলা এবং ভারী যান চলাচলের সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘উপজেলার বেশ কয়েকটি সড়ক বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যে কারণে এই উপজেলার মানুষদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’ কথা হয় একই ইউনিয়নের বাসিন্দা ভ্যান চালক তৈয়ব শেখের সঙ্গে। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। ওই রোড দিয়ে চলাচল করলে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যাবে।’

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘সড়কটি বর্তমানে মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। খানাখন্দে ভরা এই সড়কে ছোট যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সড়কটি দিয়ে কোনো অসুস্থ মানুষকে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’

সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পরিবহণ চালক ইয়াসিন খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করে। তবে নিরাপদ যাত্রার পর শেষ এক কিলোমিটার যাত্রীদের জন্য আতঙ্কে পরিণত হয়। এ ছাড়া প্রায় এ সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। আমাদের এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে কবে?’

রূপসা উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজমুল হুদা সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে সড়কগুলো সংস্কারের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পেলে বেহাল সড়কগুলো সংস্কার করা হবে।’

আর খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-কেডিএ’র চেয়ারম্যান এড. এসএম শফিকুল আলম মনা সারাবাংলাকে বলেন, ‘কেডিএ’র আওতায় চলাচলের অনুপযোগী যতগুলো সড়ক রয়েছে সেগুলো যতদ্রুত সম্ভব সংস্কার করা হবে। এ ছাড়া যে সড়কগুলোর কাজ চলমান রয়েছে সেগুলোও দ্রুত শেষ করা হবে।’

সারাবাংলা/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর