Thursday 23 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাবি প্রশাসন ভবনে জামায়াতপন্থীদের বদলি করে বিএনপিপন্থীদের পদায়নের অভিযোগ

রাবি করেসপন্ডেন্ট
২৩ জুলাই ২০২৬ ১৬:৫৪

সংবাদ সম্মেলন।

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রশাসনিক ভবন থেকে জামায়াতপন্থী কর্মকর্তাদের বদলি করে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদের পদায়নের অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী কর্মকর্তাদের সংগঠন রাবি অফিসারর্স ফোরামের নেতারা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন তারা।

অফিসার্স ফোরামের নেতারা দাবি করেন, প্রশাসনিক ভবন থেকে জামায়াতপন্থী কর্মকর্তাদের সরিয়ে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সিনিয়র কর্মকর্তাদের জুনিয়র কর্মকর্তাদের অধীনে বদলিরও অভিযোগ তোলেন তারা।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মোট ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রাবি অফিসার্স ফোরামের সেক্রেটারি কাজী মামুন বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই সরকারের অন্যতম অংশীজন হিসেবে আমরাও রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, ইনসাফপূর্ণ ও দলীয়করণমুক্ত প্রশাসন প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বেছে বেছে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে, যাদের জামায়াতপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, প্রশাসনিক ভবন থেকে বিভিন্ন বিভাগে বদলি করেছে। এমনকি অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে তাদের জুনিয়র কর্মকর্তাদের অধীনে পদায়ন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চাকরির অংশ হিসেবে বদলিকে আমরা স্বাভাবিকভাবেই স্বাগত জানাই। তবে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ ছিল, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মর্যাদা ও সম্মান বজায় রেখে বদলি করা হোক। একজন কর্মকর্তা ২০ থেকে ২২ বছর প্রশাসনিক ভবনে দায়িত্ব পালনের পর তাকে হঠাৎ বিভাগে বদলি করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। প্রয়োজন হলে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র কর্মকর্তাদের বিভাগে পদায়ন করা যেত। প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, বিষয়টি সমন্বয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা তাদের সিদ্ধান্তের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছি। অন্যথায় আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।’

অফিসার্স ফোরামের সভাপতি মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে আপামর জনতার সঙ্গে আমরাও একসঙ্গে কাজ করেছি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, নতুন প্রশাসন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো দলীয়করণের ঊর্ধ্বে ওঠা সম্ভব হয়নি। আমরা লক্ষ্য করছি, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি শক্তির কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ভবন থেকে বদলি করা হচ্ছে, আর তাদের জায়গায় অন্য একটি দলের ঘনিষ্ঠদের পদায়ন করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি, এটি দলীয়করণের জায়গা নয়; এটি যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন ও পদায়নের স্থান। উপাচার্য আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা সেই আশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে অপেক্ষা করছি। তবে যদি ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রশাসনিক ভবনে রেখে আন্দোলনে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের অবমাননাকরভাবে বদলি করা হয় এবং তাদের জুনিয়র কর্মকর্তাদের অধীনে পদায়ন করা হয়, তাহলে সাধারণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা অবশ্যই এর প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

 

সারাবাংলা/এনএমইি/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর