যশোর: গুজব ঠেকাতে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, যে সমাজে বাবা-মায়েরা কম লেখাপড়া করেছে সেই সমাজেও নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ ছিল। দুর্ভাগ্য একবিংশ শতাব্দীতে এসে সবাই আধুনিক হয়েছে কিন্তু নৈতিক শিক্ষা নিঃশেষ হয়ে গেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট সভাকক্ষ ‘অমিত্রাক্ষর’-এ আয়োজিত ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় দক্ষ করে তুললেই হবে না, তাদের নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই এ ধরনের অপপ্রচার বাড়ছে। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরে নৈতিক শিক্ষার চর্চা জোরদার করতে হবে।’
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, ‘ইসলামের নামে কোরআন হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে সমাজে কেউ যেন বিভক্তির রেখা টানতে না পারে এ ব্যাপারে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার্থে ইমাম পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদের নিয়মিত যোগাযোগ বাঞ্ছনীয়। এতে সহজেই অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। সমাজের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে গুজব ও অপতথ্যের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের মো. পারভেজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সাব-ইন্সপেক্টর অলক কুমার দে, ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আব্দু মান্নান, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সাইদ সান।