নীলফামারী: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, বিরোধীদল কৃত্তিম ভাবে সারের সংকট তৈরি করে সরকারের ইমেজ নষ্ট করতে চায়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় নীলফামারী ডোমারের চিলাহাটিতে গাওছিয়া কমিটি চিলাহাটি শাখার আয়োজনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যত সারের ডিলার বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, বিএনপির আমলে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আমরা আগের ডিলার বাতিল না করে শূন্য পদে ডিলার নিয়োগের ২য় পরিপত্র দিয়েছি। ৩য় পরিপত্রের সময় বাড়িয়ে দিয়ে প্রতি ইউনিয়নে ইউএনওর মাধ্যমে একজন করে ডিলার নিয়োগ। যার মাধ্যমে জনগণ সহজেই সার পায়। কেউ যেন বেশি দামে সার বিক্রি করতে না পারে সেজন্য আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করবই। যা আমাদের নির্বাচনি কমিটমেন্ট, যার মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের আমাদের কয়েক লাখ মানুষ তাদের দীর্ঘদিন দুঃখ দুর্দশা লাঘব করবে। আমাদের এই এলাকা মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে কৃষি কাজ করতে পারেন, মাছ চাষ করতে পারেন, হাঁস চাষ করতে পারেন, সেইভাবে আমরা এই এলাকাগুলোকে মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলব।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আজকে যারা আপনাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন রকম বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমাদের ভোট জোড় নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, বলতে চাই সেই সময় তাদের আমির বলেছিলেন যে, কিসের ফ্যামিলি কার্ড? আজকে কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে আমাদের ১০টি উপজেলায় প্রায় ১৪টি ইউনিয়নে সেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে এবং এরই মধ্যে আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, আমরা প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ইউনিয়নে আমরা যারা ফ্যামিলি কার্ডের যারা বিশেষ করে নির্ধারণ করবেন, তাদের তালিকা করেছি। কারণ আমরা এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচটা ক্রাইটেরিয়া আছে। সেই পাঁচটি ক্রাইটেরিয়ার ভিতরে আমরা প্রথম তিনটি ক্রাইটেরিয়া যারা পড়বেন, তাদেরকে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসবো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সরকার গঠন করতে পারলে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। আমাদের এই অঞ্চলে প্রতিনিয়ত পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। একসময় ২০ থেকে ২৫ ফুট খুঁড়লেই টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যেত। এখন ২০০ ফুট খুঁড়েও অনেক জায়গায় পানি পাওয়া যায় না। বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোথাও কোথাও ৬০০ থেকে ৭০০ ফুট খুঁড়েও পানি পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। কিন্তু এসব নদীর অনেকগুলোই এখন আর স্বাভাবিক প্রবাহে নেই। কুড়িগ্রামে দেশের সবচেয়ে বেশি, ৫৪টি নদী এবং পঞ্চগড়ে ৫০টি নদী রয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চগড়ের বেশ কয়েকটি নদী এখন আর জীবন্ত নেই।
ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভারত সরকারকে আমি অনুরোধ করব, যদি আমাদের বন্ধু মনে করেন, তাহলে জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। এতে আমরা মনে করব, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আপনারা আন্তরিক। আমি আশা করি, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী দিনে আমাদের সেই সুবিধাগুলো প্রদান করবেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী, ১২ রবিউল আউয়াল, আমাদের নবী করিম (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের দিন। ৬৩ বছরের জীবনে তিনি ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনের এমন আদর্শ রেখে গেছেন, যা ১৪০০ বছর পরও বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ অনুসরণ করে আসছে। সামাজিক, পারিবারিক ও আত্মসামাজিক জীবনসহ মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। মহান রাব্বুল আলামিন যেন আমাদের তার দেখানো পথে চলার তাওফিক দান করেন।
এ সময় আরও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী, ডোমার থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ভোগডাবুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেয়াজুল ইসলাম কালু, ডিমলা ঠাকুরগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি শাহ মোহাম্মদ ইমরান, মদিনাতুন নুর মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক ক্বারি মোহাম্মদ আলামিন ইসলাম আছ ছাদেকী।