Sunday 26 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বঙ্গোপসাগরে ৩৬ দিন ভেসে থাকার পর ২ শ্রীলঙ্কান জেলে উদ্ধার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৬ জুলাই ২০২৬ ১৫:৪১

ছবিতে একইরকম টি শার্ট পরা ব্যক্তি দজন উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কার নাগরিক।

বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ৩৪ দিন ধরে ভাসতে থাকা একটি ট্রলার থেকে শ্রীলঙ্কার দুই নাগরিককে উদ্ধার করেছেন স্থানীয় জেলেরা।

জিয়াউর রহমান নামের এক জেলের নজরে পড়ে ভাসমান ওই নৌকাটি। গভীর সাগর থেকে তাদের উদ্ধার করে শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে মহেশখালীতে নিয়ে আসা হয়।

উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন এস এইচ চামিন্দা (৫১) এবং তার ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং (৩০)। তাদের বাড়ি শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার রুরাল হসপিটাল রোডে। পেশায় দুজনই জেলে।

মহেশখালী থানা পুলিশ বলছে, চামিন্দা জানিয়েছে, গত ১৯ জুন দুপুর ২টার দিকে তারা শ্রীলঙ্কার ডোন্ডা বন্দর থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সাগরে পাড়ি জমান। কিন্তু সাগরে পৌঁছানোর পরদিন ভোরে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফিশিং বোটটি সাগরের তীব্র জলস্রোতে ভাসতে ভাসতে শ্রীলঙ্কার জলসীমা পেরিয়ে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের জলসীমায় চলে আসে।

বিজ্ঞাপন

এরপর গত ৩৬ দিন ধরে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় কাঁচা মাছ খেয়ে বেঁচে ছিলেন বলেও জানান।

উদ্ধার পাওয়ার পর চামিন্দা বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো খাবার ছিল না। এই মানুষগুলো আমাদের দুটি বিস্কুটের প্যাকেট দেন। তা খাওয়ার পর আমরা একটু শক্তি পেয়ে চাল চাইলাম, কারণ পেটে খুব ক্ষুধা ছিল। তারা আমাদের এক পাতিল রান্না করা ভাত খেতে দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা প্রথমে আমাদের খাবার দিয়ে চলে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয়বারে বোট ঘুরিয়ে আমাদের কাছে ফিরে আসে এবং রশি বেঁধে টেনে উপকূলের ঘাটে নিয়ে আসে। ঘাটে আনার পর তারা আমাদের যে ভালোবাসা ও খাবার দিয়েছে, মনে হচ্ছিল ঈশ্বর যেন আমার নিজের মায়ের রূপ ধরে আমাদের বাঁচাতে এসেছেন।’

উদ্ধারকারী ট্রলার মালিক ও জেলে জিয়াউর রহমান বলেন, ‘১৩ জুলাই প্রায় ৩ লাখ টাকার বাজার করে তিনি মহেশখালীর ঘটিভাঙ্গা ঘাট থেকে মাছ ধরতে যান। সমুদ্রের ১৮ বিয়ো পয়েন্ট অতিক্রম করার পর ভাসতে থাকা একটি ছোট বোট থেকে জেলেরা তাকে ডাকতে থাকেন। কাছে যাওয়ার পর ওই বোট থেকে একজন জেলে আমার বোটে উঠে বাঁচানোর আকুতি জানায়। আমি তাদের ভাষা বুঝতে পারছিলাম না।’

জিয়াউর রহমান আরও জানান, উদ্ধারকারীরা বোটটি বর্তমানে ঘটিভাঙ্গা ঘাটেই নোঙর করা রয়েছে। উপকূলের কাছাকাছি আসার পর জিয়াউরের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে শ্রীলঙ্কায় পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন উদ্ধার হওয়া জেলেরা। এরপর পরিবার থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসে এবং দূতাবাস থেকে সরাসরি জেলে জিয়াউরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

মুমূর্ষু জেলেদের কুতুবজোম ইউনিয়নের বটতলী গ্রামে জিয়াউরের বাড়িতে নিয়ে স্থানীয় চৌকিদারের সহায়তায় সুস্থ করে তোলা হয়। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সুলতান জানান, ‘উদ্ধার হওয়া দুই বিদেশি জেলেকে বর্তমানে নিরাপদ পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিতকরণসহ পরবর্তী আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, ‘বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিষয়টি যেহেতু অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা, তাই মহেশখালী থানা সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করে তাদের আদালতে উপস্থাপন করবে। পরবর্তীতে দূতাবাসের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলাপের পর তাদের ফেরত পাঠাবার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’