Sunday 26 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

তিস্তার ভাঙনে গঙ্গাচড়ায় আতঙ্ক, হুমকির মুখে ইউপি ভবন-মসজিদ-সড়ক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৬ জুলাই ২০২৬ ২৩:৫০

তিস্তার ভাঙনের কবলে গঙ্গাচড়া। ছবি: সারাবাংলা

রংপুর: জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় তিস্তা নদীর সংরক্ষিত ডান তীরে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত নদীর প্রায় ২০ মিটার অংশ ধসে গেছে। এতে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদ, সড়ক, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি এবং শহর রক্ষার গ্রোয়েন বাঁধও ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।

ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিওব্যাগ ফেললেও নদীপাড়ের মানুষের আতঙ্ক কাটেনি। স্থানীয় বাসিন্দারা ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। কোলকোন্দ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জানান, তিস্তায় পলি পড়ে বড় বড় চর তৈরি হওয়ায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তীরে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, এর আগে গত সপ্তাহে পার্শ্ববর্তী নোহালী ইউনিয়নে ভাঙনে ২২টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচারীপাড়া ও চর বাগডোহরা গ্রামের এসব পরিবার এখন নিঃস্ব। নোহালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়া ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাগডোহরা গ্রামের ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে’।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কাচারীপাড়ার বাসিন্দা মোতালেব মিয়ার বাড়ি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ওই যে ধপাস করি মাটি ভাঙছে, ওইটা মোর ভিটা না, মোর কলিজা ভাঙছে। শেষ বয়সেও তিস্তা মুক্তি দিল না’। আরেক ভুক্তভোগী সুলতানা বেগম ৩৫ বছরের সংসারে অন্তত ১০ বার তিস্তায় বসতভিটা হারিয়েছেন।

রোববার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে ৫১.৮৭ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হয়েছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫২.১৫ সেন্টিমিটার। উজানের ঢল কমে আসায় তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেও ভাঙন বাড়ছে।

কোলকোন্দ ইউনিয়ন এলাকার বাসিন্দা শামীম মিয়া বলেন, নদীর তলদেশ পলিতে ভরাট হওয়ায় তিস্তার ডান ও বাম দুই তীরের ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্ষায় উজানের পানি ধারণ করতে না পারায় পানির চাপ নদীর দুই তীরে গিয়ে পড়ায় ভাঙন তৈরি হচ্ছে। এ ভাঙন বন্ধ করতে নদী ড্রেজিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ সম্প্রতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ও রংপুর-১ আসনের এমপি রায়হান সিরাজী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রোববার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওব্যাগ ফেললে বাঁধের ভাঙন কিছুটা কমেছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আমরা এলাকা পরিদর্শন করেছি। এরইমধ্যে জিও ব্যাগ দেওয়া হয়েছে’।

রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, ‘আমাদের দলের পক্ষ থেকে সংসদে ও রাজপথে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর দাবি জানানো হয়েছে। দ্রুত এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নদী ভাঙনে প্রতি বছর মানুষকে সর্বস্ব হারা হতে হবে না’।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর