শরীয়তপুর: ভেদরগঞ্জে টাকা ও স্বর্ণের গহনা চুরির অপবাদ দিয়ে এক মধ্যবয়স্ক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ছয়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা ও তার সহযোগীরা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাবেক বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন মোল্লার দুই লাখ নগদ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণের গহনা হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযোগ তুলে তিনি এলাকার আবুল শেখের স্ত্রী ও ছয় সন্তানের জননী নারগিস বেগমকে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে আটকে রেখে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। নির্যাতনের সময় বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আকুতি জানান নারগিস বেগম। একপর্যায়ে মারধরের ফলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও থামেনি নির্যাতন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মারধরের এই ঘটনাটি পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী নারগিস বেগম বলেন, ‘আমি কোনো চুরি করিনি। তারা আমাকে চোরের মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। তারা আমার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর করেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’
নারগিস বেগমের ছেলে গোলাম রাব্বি বলেন, ‘আমাদের পরিবারে পরিবারে কোনো অভাব নেই। আমার এক ভাই প্রবাসে থাকেন। আমার মা চুরি করেননি। তারপরও বিএনপি নেতা আনোয়ার মোল্লা ও তার লোকজন চুরির অপবাদ দিয়ে আমার মাকে অনেক মারধর করেছে। আমার মা একজন স্ট্রোকের রোগী। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমার মা যদি চুরি করতো তারা আইনের আশ্রয় নিতো, কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়া আমার মাকে কেন এভাবে মারা হলো আমি তার বিচার চাই।’
মেয়ে মেহেরুন বলেন, ‘যেভাবে আমার মাকে মারা হয়েছে তা দেখার মতো নয়। কয়েকজন মিলে আমার মাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে। আমার মায়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো উচিত ছিল। কিন্তু তারা আমার নির্দোষ মাকে মেরেছে। আমি সবার বিচার চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন মোল্লার বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ভিডিওটি দেখেছি। এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কোনো ব্যক্তিকে তদন্ত ছাড়াই এভাবে নির্যাতন করার সুযোগ নেই। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।’
বিষয়টি নিয়ে ভেদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাসার বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে আহত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করা হলে তা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।’