Wednesday 30 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাখাইনে তীব্র সংঘাত, নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
২৭ জুলাই ২০২৬ ২১:২৭ | আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০৮:৪০

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘাত ও বিমান হামলা তীব্র হওয়ায় বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে সীমান্তমুখী হচ্ছে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ। তবে নতুন করে কোনো অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এরইমধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার চাপ সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ, এ অবস্থায় নতুন করে কাউকে আশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই।

রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও বিমান হামলার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্তবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকানো কঠিন হবে। তাদের মতে, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন পথে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। সীমান্তে আরও কার্যকর নজরদারি ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের মাধ্যমে অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে জোর দিতে হবে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কোনো সক্ষমতা নেই। গত কয়েক বছরে আসা প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গার জন্যও পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে অনেকেই পাহাড় কেটে কিংবা পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে, যা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, রাখাইনে বিমান হামলা ও যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে রোহিঙ্গাদের সীমান্তমুখী হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহেই ৩০ থেকে ৫০ জনের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। সংঘাত আরও বাড়লে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমি ছেড়ে বাংলাদেশে চলে এলে তাদের প্রত্যাবাসন আরও জটিল হয়ে পড়বে। তাই রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতাদের মাধ্যমে রাখাইনে থাকা জনগণকে নিজ দেশে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তার মতে, বর্তমানে রাখাইনে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। এছাড়া প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারের অন্যান্য এলাকায়, বিশেষ করে ইয়াঙ্গুন অঞ্চলে অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাখাইনের পরিস্থিতি বিবেচনায় টেকনাফের নাফ নদী থেকে শুরু করে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। বিজিবির পাশাপাশি কোস্টগার্ডও আধুনিক জলযান, ড্রোন প্রযুক্তি এবং নিয়মিত টহলের মাধ্যমে সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।

কক্সবাজারের ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. খায়রুল আলম বলেন, রাখাইনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে সীমান্তে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা কিংবা মিয়ানমারের অন্য কোনো নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সীমান্তে যেকোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশনের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন বলেন, নাফ নদীসংলগ্ন সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা আধুনিক জলযান ও ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি চলছে। পাশাপাশি স্থলভাগেও নিয়মিত মানব টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো

সম্পর্কিত খবর