Monday 27 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নীলফামারীতে পরীক্ষা ছাড়াই স্কুলে গোপনে নিয়োগ, অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ জুলাই ২০২৬ ২২:৩৪ | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ ২২:৩৫

নীলফামারী: জেলার জলঢাকা উপজেলার গোপালঝাড় বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে কোনো নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই গোপনে দু’টি পদে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চাকরির নামে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি।

তবে প্রধান শিক্ষক দাবি, নিয়োগের বিষয়টি ভুয়া এবং বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক করে জাল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। যদিও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব আইডি ও সই ব্যবহার করেই নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতার বিল সরকারি দফতরে পাঠানো হয়েছে।

১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত গোপালঝাড় বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী, ১৬ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে বিদ্যালয়ের শূন্য থাকা অফিস সহায়ক ও নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগের জন্য তিন দফা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও কোনোবারই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি পরীক্ষা ছাড়াই অফিস সহায়ক পদে জাহিদুল ইসলাম এবং নৈশপ্রহরী পদে তৎকালীন সভাপতির ভাতিজা সবুজ ইসলামকে গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়া জাহিদুল ইসলাম মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ পাওয়া সবুজ ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অন্য সদস্যদেরও কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। কমিটির সদস্য বজলুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন কমিটিতে থাকলেও এ নিয়োগ সম্পর্কে তাকে কিছু জানানো হয়নি এবং তার কোনো সইও নেওয়া হয়নি। পরে তিনি জানতে পারেন, ব্যাকডেটে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে।

চাকরিপ্রার্থী ভুক্তভোগী গোপালঝাড় গ্রামের মো. আলমগীর অভিযোগ করেন, অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তৎকালীন সভাপতির কাছে তিনি জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে ৮ লাখ টাকা দেন। পরে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই অন্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হলে তিনি প্রতারণার শিকার হন।

আলমগীর বলেন, চাকরির জন্য আবেদন করতে সুবিধা করে দিতে প্রধান শিক্ষক তার জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়সও কমিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে চাকরি না দিয়ে বেশি টাকার বিনিময়ে অন্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি।

চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান। তবে তিনি দাবি করেন, ৮ লাখ নয়, প্রধান শিক্ষক ও তিনি মিলে আলমগীরের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। পরে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আলমগীরকে লাভসহ সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়েও এই অর্থের অংশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে নিয়োগ ও লেনদেনের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হামিদুর রহমান। তার দাবি, নিয়োগ দেওয়া হয়নি। স্কুলের ওয়েবসাইট হ্যাক করে একটি চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে এসব তথ্য ছড়াচ্ছে।

প্রধান শিক্ষকের এই দাবিকে পুরোপুরি অসত্য বলে নাকচ করে দিয়েছেন শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা। জলঢাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আশরাফ-উজ-জামান সরকার জানান, প্রধান শিক্ষকের দাবি সম্পূর্ণ বানোয়াট। তিনি নিজেই অফিসে এসে ওই দুই পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের বিল পাঠানোর সুপারিশ করেছিলেন।

এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমানও বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব অনলাইন আইডি ও সই ব্যবহার করেই বেতন-ভাতার বিলের আবেদন পাঠানো হয়েছে। তাই এই নিয়োগ অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর