Wednesday 29 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৮ জুলাই ২০২৬ ১৫:৪৭ | আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ২২:২৭

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার স্কুলছাত্র সোহান মিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অন্য একটি ধারায় তাদেরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ.ফ.ম নূরতাজ আলম বাহার।

একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ দেওগাঁও এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে মো. আওয়াবিন মিয়া এবং বরিশাল জেলার বিমানবন্দর উপজেলার সারসী গ্রামের নূর মুন্সির ছেলে মো. সাগর মুন্সি। সাগর পলাতক রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহত সোহান মিয়া সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম ও লাইলী বেগম দম্পতির বড় ছেলে। তিনি ফোর্ডনগর বিআরটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। করোনা মহামারির সময় স্কুল বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে তার জন্য একটি ব্যাটারিচালিত হ্যালোবাইক কিনে দেন। সেই হ্যালোবাইক চালিয়ে তিনি ধল্লা বাজার ঘাট থেকে খাসের চর পর্যন্ত যাত্রী আনা নেওয়া করতেন।

২০২১ সালের ১৯ জুলাই সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো হ্যালো বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সোহান। দুপুরে খাবারের সময় বাড়িতে না ফেরায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরবেন বলে জানান। তবে পরে আবার ফোন করলে সেটি আর রিসিভ করেননি।

পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানতে পারেন, খাসের চর বাজার থেকে ধল্লা বাজারগামী কাঁচা সড়কের পাশে সোহানের মরদেহ পড়ে রয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। এ সময় তার ব্যবহৃত হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি। তদন্তে উঠে আসে, হ্যালো বাইক ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার দিনই নিহতের মা লাইলী বেগম সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম ২০২১ সালের ৩০ জুলাই তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর