Thursday 30 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রংপুরে কাঁচামরিচে আগুন, পাইকারি দাম ৩০০ টাকা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ জুলাই ২০২৬ ০৯:৩৬

রংপুর: উত্তরবঙ্গের সবজির রাজধানী খ্যাত রংপুরে যেন কাঁচামরিচের বাজারে আগুন লেগেছে। ভরা মৌসুমে স্বস্তির বদলে দুশ্চিন্তায় সাধারণ ক্রেতারা। মাত্র ৩ দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৭০ টাকা থেকে লাফিয়ে ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে কাঁচামরিচ। আর খুচরা বাজারে এর দাম ছাড়িয়েছে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। তীব্র এই মূল্যস্ফীতির মধ্যেই যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, তখন এই অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধির খবরই নেই ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের কর্মকর্তাদের। প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি আসলেই সরবরাহ সংকট, নাকি বড় কোনো সিন্ডিকেটের ইন্ধন

রংপুরের সিটি বাজার-উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ কৃষিপণ্যের মোকাম। ঢাকাসহ সারা দেশে এখান থেকেই যায় সবজির বড় চালান। কিন্তু সেই মোকামেই গত কয়েকদিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা গরিব-মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে।

বিজ্ঞাপন

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি আড়তে কাঁচামরিচের স্তূপ থাকলেও দামের পারদ যেন আকাশচুম্বী। আড়তদার ও পাইকাররা দামবৃদ্ধির কারণ হিসেবে সরবরাহ কমে যাওয়া ও অতি বৃষ্টির কথা বলছেন। কিন্তু ক্রেতাদের সন্দেহ, এটা কোনো ‘কৃত্রিম সংকট’।

স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘মাত্র তিন দিন আগেও ৭০-৮০ টাকায় কাঁচামরিচ কিনেছি। হঠাৎ কী হলো, দাম চার গুণ বেড়ে গেল? আড়তদাররা মিলে সিন্ডিকেট করছে, এটুকু বুঝতে পারছি।’

রংপুরের নিসবেতগঞ্জ থেকে আসা জোসনা বেগম বলেন, ‘কাঁচামরিচ কিনতে গেলে এখন মনে হয় যেন অপরাধ করছি। নিম্ন-মধ্যবিত্ত সংসারে এভাবে দাম বাড়লে কীভাবে চলবে? শুধু মরিচ নয়, আলু, পেঁপে, ঝিঙা, পটল—সবজির দামও দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’

পাইকারি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ৩০০ টাকা কেজি দরে মরিচ কিনছি। পরিবহন ও মজুত খরচ বাদ দিলে কেজিপ্রতি খরচ দাঁড়ায় সাড়ে ৩শ টাকার ওপরে। তাই খুচরায় ৪শ টাকার নিচে বিক্রি করলে ব্যবসা টেকানো সম্ভব নয়।’

এই দাম বৃদ্ধির কারণকে বাজার বিশ্লেষকরা ভৌগোলিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তারা বলছেন, রংপুর বিভাগে এ বছর অতিরিক্ত বর্ষণ ও সাম্প্রতিক বন্যায় ফুল ঝরে যাওয়া এবং গাছ পচে যাওয়ার কারণে ফলন কিছুটা কম হয়েছে। বিশেষ করে গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মরিচের গাছের গোড়া পচে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন চাহিদা বাড়ার প্রভাব পড়েছে বাজারে। গত বছর একই মৌসুমে রংপুরের পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচের দাম ছিল ৪০-৬০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ৫ গুণ।

এদিকে অন্যান্য সবজির দরও এখন লাগামহীন। কাঁচামরিচের পাশাপাশি আলু (পাইকারি ৪০-৪৫ টাকা), পেঁপে (৫০-৬০ টাকা), ঝিঙা (৮০-৯০ টাকা), পটল (৭০-৮০ টাকা) এবং ঢ্যাঁড়স (৬০-৭০ টাকা) দরে বিক্রি হচ্ছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০-৫০% বেশি।

ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজার রহমান প্রথমে দাবি করেন, ৪ গুণ দামবৃদ্ধির বিষয়টি তাদের জানা নেই। পরে তিনি জানান, ‘তথ্য পেয়ে আমরা এরইমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি। ব্যবসায়ীদের কাছে নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’  তবে সাধারণ মানুষ এই ধীরগতির পদক্ষেপ নিয়ে হতাশ।

সরবরাহ সংকট না সিন্ডিকেট—উত্তর পায়নি সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন উঠেছে, কাঁচামরিচের এই ‘আগুন’ কি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আসবে? নাকি সাধারণ মানুষকে আরও কয়েকদিন ‘ঝাল’ সহ্য করতে হবে? সেদিকেই এখন তাকিয়ে রংপুরবাসী।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর