পঞ্চগড়: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে একটি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরি করে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে শিবির মিডিয়া সেলের বিরুদ্ধে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অংশ। এ প্রোপাগান্ডার প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে ‘সর্বস্তরের সনাতনী সমাজ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে দেবীগঞ্জ শহরের বিজয় চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
পঞ্চগড় জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক হরিশ চন্দ্র রায়, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মদন মোহন রায়, সুন্দরদীঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক হরিশ চন্দ্র রায়, চেংঠী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অনীল চন্দ্র রায়, পামুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনি ভূষণ রায় এবং দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায় প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা ‘শিবির মিডিয়া সেল’ থেকে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিমন্ত্রীর চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে ভুয়া ছবি ও ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ভাইরাল হওয়া কনটেন্টে প্রতিমন্ত্রীর মুখ ও শরীরের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে এবং এটি কৃত্রিমভাবে সম্পাদনা করা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সার্বক্ষণিক সরকারি দায়িত্ব ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকেন। তার জনপ্রিয়তা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে দেবীগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন।
এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে একজন নারীর সঙ্গে আপত্তিকর পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রীকে দেখানো হয়েছে। ছবিটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীর দাবি, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনার পর পালটা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ফরহাদ হোসেন আজাদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।
ভাইরাল ছবিটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এটি কোলাজধর্মী এবং একটি আপত্তিকর দৃশ্যের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর পৃথক একটি প্রতিকৃতি যুক্ত করা হয়েছে। ছবিতে আলো-ছায়া, মুখাবয়ব, শরীরের অনুপাত ও সম্পাদনায় কিছু অসামঞ্জস্য দেখা গেলেও, কেবল দৃশ্যগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এটি আসল বা ভুয়া—কোনোটিই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক এআই প্রযুক্তি ও উন্নত ডিজিটাল সম্পাদনার মাধ্যমে এ ধরনের ছবি সহজেই তৈরি করা সম্ভব।
এবিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এআই ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব ছবি বা ভিডিওর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এ কারণেই আমার এলাকার মানুষ এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন।’