Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সিরাজগঞ্জে অনুমোদনহীন পেট্রোল পাম্পের বিস্তার, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

আশরাফুল ইসলাম জয়
৩১ জুলাই ২০২৬ ১০:১৪ | আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৬ ১২:৩১

অবৈধ পাম্প থেকে তেল নিচ্ছেন ক্রেতারা।

সিরাজগঞ্জ: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নতুন ফিলিং স্টেশন স্থাপনের অনুমোদন দীর্ঘদিন ধরে সীমিত রাখলেও, সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অনুমোদনহীন ‘মিনি পেট্রোল পাম্পের’ বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। দোকান, সার্ভিসিং সেন্টার কিংবা গ্যারেজের আড়ালে ডিসপেনসার ইউনিট বসিয়ে প্রকাশ্যে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জননিরাপত্তা, পরিবেশ এবং সরকারের রাজস্ব আদায় মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার ৫টি উপজেলায় অন্তত ১৫টি অবৈধ জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্র সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে রায়গঞ্জ উপজেলায় ৫টি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪টি শাহজাদপুর উপজেলায় ৪টি উল্লাপাড়ায় ১টি এবং কাজিপুরে ১টি প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে জ্বালানি বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলাভিত্তিক অবৈধ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় র‌য়ে‌ছেন, রায়গঞ্জ উপজেলা, মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশন, মেসার্স সাহেলা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সোহেল ট্রেডার্স, মেসার্স বাবু সার্ভিসিং সেন্টার, মেসার্স আলম সার্ভিসিং সেন্টার। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেসার্স মোতালেব অ্যান্ড ব্রাদার্স, মেসার্স মা ট্রেডার্স, মেসার্স আলামিন ট্রেডার্স

শিয়ালকোল এলাকার একটি অবৈধ জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্র, শাহজাদপুর উপজেলা ৪টি, মিম ঐশী বাস কাউন্টার সংলগ্ন জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্র, মেসার্স সাত্তার মোল্লা, মেসার্স আলম মোল্লা, মেসার্স ফয়সাল আল ফারুক উল্লাপাড়া উপজেলা ১টি, মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স।

কাজিপুর উপজেলায় মেসার্স মেঘাই তেলের পাম্প।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর অবাধে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। খোলা পরিবেশে জ্বালানি সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করায় যে কোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা রয়েছে।

জেলাজুড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ মিনি পেট্রোল পাম্প।

আরও অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে বিক্রি হওয়া জ্বালানির একটি অংশ বিভিন্ন যানবাহন থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়। পরে তাতে ভেজাল মিশিয়ে বাজারজাত করা হয়, ফলে যানবাহনের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

এর আগে, ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে লাইসেন্স ছাড়া জ্বালানি বিক্রির দায়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই সেগুলো আবার চালু হয়ে যায়। এতে প্রশাসনিক তৎপরতার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল জলিল বলেন, অনুমোদনহীন ও অবৈধভাবে পরিচালিত জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রগুলো জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। এসব স্থানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না, ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একই সঙ্গে এসব অবৈধ পাম্পের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রের রাজস্ব সুরক্ষায় দ্রুত এসব অবৈধ পাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম জানান, রায়গঞ্জের তালুকদার ফিলিং স্টেশন, সাহেলা এন্টারপ্রাইজ ও সোহেল ট্রেডার্সের বিপিসির অনুমোদন নেই। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে পরিচালিত ফিলিং স্টেশনগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, অনুমোদনহীন এসব মিনি পেট্রোল পাম্প শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, জননিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতির জন্যও বড় হুমকি। তাই দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

সারাবাংলা/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

আশরাফুল ইসলাম জয় - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর