Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

লোডশেডিং হলে ফোনের আলোয় চলে রেলস্টেশনের দাফতরিক কাজ, যাত্রীরা থাকেন অন্ধকারে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩১ জুলাই ২০২৬ ১৩:৫৪

মোবাইলের আলোয় চলছে দাফতরিক কাজ।

রাজবাড়ী: রাজবাড়ী রেলস্টেশনে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয় পুরো স্টেশনে। বাধ্য হয়ে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইলের টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে দাফতরিক কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রেলস্টেশন এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়।

এ সময় স্টেশনের ১নং লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোল এক্সপ্রেস এবং ২ নং লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস। এ চিত্র শুধু একদিনের নয়, প্রায় প্রতিনিয়তই এমন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে যাত্রী ও রেলস্টেশন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী গুরুত্বপূর্ণ একটি স্টেশন হওয়ায় এখানে প্রতিদিন শত শত যাত্রী যাতায়াত করেন। স্টেশনে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জেনারেটর বা আইপিএসের স্থায়ী ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অন্ধকার নেমে আসে অফিস কক্ষসহ পুরো প্লাটফর্ম। ট্রেনের শিডিউল, মেইনটেইন, রেজিস্টার খাতায় এন্ট্রি দেওয়া এবং টিকিটিংয়ের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করতে গিয়ে কর্মীরা বিপাকে পড়েন। বাধ্য হয়ে অনেকে টেবিলের ওপর মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে বা মোমের আলোয় কাজ করতে হচ্ছে। যাত্রীরাও ট্রেনের অপেক্ষায় বসে থাকেন অন্ধকারে।

স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় এক বছর ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও এখনও কোনো বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। অন্ধকার স্টেশনে চলাচল করতে গিয়ে যাত্রীরাও দুর্ঘটনার শিকার হন। কয়েকদিন আগে বুকিং সহকারী সাদিকা আক্তারের স্বামী এনায়েত হোসেন অন্ধকারে প্লাটফর্ম থেকে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে ফেলেন।

অন্ধকারাচ্ছন্ন স্টেশন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, রাতের বেলায় বিদ্যুৎ চলে গেলে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। এতে নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন নারী ও শিশুরা। বসারও তেমন জায়গা নেই। দ্রুত বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দাবি জানান তারা।

রাজবাড়ী রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘আইপিএসের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আইপিএস পাইনি, শুধু আশ্বাস পেয়েছি। দ্রুত একটি আইপিএস বা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজবাড়ী স্টেশনে রিলিফ ট্রেন, সাট্রল ট্রেন, ভাটিয়াপাড়া/রাজবাড়ী মেইল ট্রেন এবং ৩/৪ টা ইঞ্জিন থাকে, অন্ধকারে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। লোডশেডিং হলে পুরো স্টেশন এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে চুরি, ছিনতাইসহ মাদকসেবীদের বিস্তার বাড়ে। যাত্রীরা এতে অনিরাপদবোধ করেন। তাই লোডশেডিং হলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন।’

রাজবাড়ী রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) বি এম সেলিম বলেন, ‘স্টেশনের আইপিএসের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছে। স্টেশন মাস্টার আমাদের বিষয়টি জানিয়েছে। আমি পাকশিতে চাহিদাও দিয়েছি। আমার ডিভিশন অফিস পাকশি থেকে সরবরাহ করলেই রাজবাড়ী স্টেশনে নতুন আইপিএস দেওয়া হবে।’

সারাবাংলা/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর