Tuesday 04 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: তদন্ত কমিটি গঠন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৪ আগস্ট ২০২৬ ১৭:৫৮ | আপডেট: ৪ আগস্ট ২০২৬ ২১:১৮

বেরোবিতে সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই কমিটি গঠন করা হয়।

এর আগে, সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক এক প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ বাধে, যাতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জনসংযোগ দফতরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— সহকারী প্রক্টর আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট আমির শরিফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবন ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হারুন-আল রশিদ। কমিটিকে খুব দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে প্রশাসনের অনুমতিতে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক এলইডি স্ক্রিনে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও ব্যানার-ফেস্টুন প্রদর্শন করছিল বেরোবি শাখা ছাত্রশিবির।

বিবাদ শুরু হয় একটি বিতর্কিত ফেস্টুনকে কেন্দ্র করে। ওই ফেস্টুনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাশেম আলী ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি ছিল। ছাত্রশিবির এই ছবিগুলোকে ‘বিচারিক হত্যার শিকার’ হিসেবে প্রদর্শন করছিল।

ছাত্রদল রাত সাড়ে ৯টায় ওই ফেস্টুন সরানোর দাবিতে ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়।

ছাত্রদল সভাপতি মো. ইয়ামিন জানান, জামায়াতের যুদ্ধাপরাধীদের ছবি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে প্রদর্শন করায় তারা আপত্তি জানান।

বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চেয়ার ও ইটপাটকেল ছোড়া হলে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টা ধাওয়া দেয় শিবিরের নেতাকর্মীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় চলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। সংঘর্ষ ক্যাম্পাস থেকে সংলগ্ন রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে তিন ঘণ্টার বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং শতশত যানবাহন আটকা পড়ে।

ছাত্রদলের অভিযোগ, শিবিরকর্মীরা তাদের ওপর চেয়ার ছুড়ে মারে এবং ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে কারমাইকেল কলেজের শিবিরকর্মীদের এনে আক্রমণ চালায়। অন্যদিকে শিবিরের দাবি, তারা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি ছেড়ে দিতে চাইলেও ছাত্রদল হঠাৎ আক্রমণ চালায়।

এসময় দুই পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

রাত ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত উভয় পক্ষ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি ছিল। শিবিরকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের কাছে এবং ছাত্রদল কর্মীরা পার্ক মোড়ের মসজিদের সামনে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী সংঘর্ষের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে।’

প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের পর এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর