শরীয়তপুর: জেলার ভেদরগঞ্জে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণী ও তার দুই ভাই-বোনকে চুরির অপবাদে গাছে বেঁধে নির্যাতন, মারধর এবং তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘসময় তাদের আটকে রেখে নির্যাতনের পর পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
এদিকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সখিপুরের ছৈয়াল কান্দি এলাকার মুদি দোকানি আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে ফারিয়া আক্তার নামের ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাবও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। এ নিয়ে স্থানীয়রা মনিরকে একাধিকবার সতর্ক করেন। গত মঙ্গলবার সকালে ফারিয়া তার ছোট বোন মারিয়া আক্তার (১৩) ও ভাই ফাহিমকে (৭) নিয়ে মনিরের দোকানে কেনাকাটা করতে যান। সেখানে মনির তাকে অশালীন কথাবার্তা বলেন ও রাতে দেখা করার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন ফারিয়া। এর প্রতিবাদ করলে মনির তাকে ও তার দুই ভাই-বোনকে দোকানের পাশের ফৌজিয়া সরদারের বাড়িতে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।
ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি, সেখানে তাদের হাত পা বেধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ফারিয়া ও তার ভাই-বোনকে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। পরে মনিরসহ কয়েকজন তাদের গাছের সঙ্গে বেধে মারধর করেন এবং ফারিয়ার মাথার চুল কেটে দেন। এ সময় তাকে জুতার মালা পরানো হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের।
খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে সখিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন ভাই-বোনকে উদ্ধার করে। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার দিনগত রাত ১২টার দিকে থানায় ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে সেটা মামলা হিসেবে রুজু করে রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামি আফসানা সরদার (৫০) ও আমিরকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন নারী মিলে ভুক্তভোগী ওই মেয়েকে গাছের সাথে বেঁধে রেখেছেন। মেয়েটি কান্নাকাটি করছে। একপর্যায়ে এক যুবক এসে মেয়েটির হাত আরও শক্ত করে গাছের সাথে বাঁধছেন।
এক নারীকে আবার গলায় জুতার মালা পড়িয়ে দিতে দেখা যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। অন্যদিকে ভুক্তভোগীর বোনকেও একটি গাছের সাথে বেঁধে রাখতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী ফারিয়ার মা ফাতেমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মনির আমার মেয়েকে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিত। মঙ্গলবার সকালে আমার দুই মেয়ে ও ছেলে বাজার করতে মনিরের দোকানে যায়। সেখানে আমার মেয়েকে রাতে দেখা করার প্রস্তাব দিলে সে প্রতিবাদ করে। পরে আমার তিন সন্তানকে জোর করে একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। তাদের মারধর করে গাছের সঙ্গে বেধে রাখা হয় এবং মেয়ের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ফারিয়া আক্তারের অভিযোগ, মনির তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। ঘটনার দিন প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার ভাই বোনকে জোর করে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। পরে চিৎকার করলে লোকজন জড়ো হয় এবং তখন তাকে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। এরপর তাকে গাছের সঙ্গে বেধে মারধর ও চুল কেটে দেওয়া হয়। অন্যদিকে তার ভাইবোনকেও একই কায়দায় গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়।
বিষয়টি নিয়ে সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, ‘আমাদের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও শুক্রবার দুপুরে সেটি প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তীতে আবার দিনগত রাত ১২টার দিকে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। যেখানে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়। আমরা অভিযোগটি পাওয়ার পর মামলা রুজু করে রাতেই অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।’