Thursday 27 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

স্কুলে যেতে পেরোতে হয় হাঁটুপানি, ৫ বছরেও মেলেনি সমাধান

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ আগস্ট ২০২৬ ১৩:৩২

স্কুলে জলাবদ্ধতার চিত্র।

কুষ্টিয়া: বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতায় ডুবে যায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কবুরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ। বছরের প্রায় চার মাস ধরে পানি জমে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। দুর্ভোগে পড়েছে কয়েকশত শিক্ষার্থী। পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের, সেই সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে মাঠের খেলাধুলাও।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও পানি হাঁটুসমান। ফলে শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে সেই পানি পেরিয়ে শ্রেণিকক্ষে যেতে হচ্ছে। দীর্ঘসময় পানির সংস্পর্শে থাকায় পায়ে ঘা, চুলকানি ও চর্মরোগসহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত পাঁচ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়টিতে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় মাঠে দিনের পর দিন পানি জমে থাকে। বিষয়টি সমাধানে স্থানীয় বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করা হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমাদের বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায় এবং স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়।’ এ সময় তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা চাই।’

আকাশ নামের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, পানি পেরিয়ে স্কুলে আসতে অনেক সমস্যা হয়। পায়ে পানি লাগার কারণে ঘা হয়ে যায়। মাঠে পানি থাকায় খেলাধুলাও করা যায় না।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সাময়িকভাবে পানি সরিয়ে দিলেও বৃষ্টিতে আবার একই অবস্থার সৃষ্টি হয়। তাই শুধু পানি অপসারণ নয়, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পিতভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হারুন-অর রশিদ বলেন, ‘কবুরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আশপাশে বড়ো কোনো নদী বা খাল না থাকায় বৃষ্টির পানি সহজে নিষ্কাশিত হতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা নিরসন করা হোক। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ফিরে আসবে স্বাভাবিক পাঠদান ও খেলাধুলার পরিবেশ।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর