চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিখোঁজের পাঁচদিন পর রুমন আলী (২৩) নামের এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অটোরিকশা ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের অটোরিকশা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
নিহত রুমন আলী শিবগঞ্জ উপজেলার মোহনবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন রুমন আলী। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পালিত পিতা মো. একরামুল হক ২২ আগস্ট রাতে শিবগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) সৌরভ কুমার দত্ত জিডিটির তদন্তভার পান। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। পরে ২৩ আগস্ট ওয়াসিমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রফিকুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে যে রুমনের অটোরিকশাটি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ৭০ হাজার টাকা নগদে উমর ফারুকের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমর ফারুকের বাড়ি থেকে রুমনের অটোরিকশাটি উদ্ধার এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় রুমনের স্ত্রী মোসা. নাজমা সুলতানার লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে ২৩ আগস্ট শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩৭৯/৪১১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, মামলায় গ্রেফতার তিন আসামিকে তিনদিনের পুলিশি রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপারের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় একাধিক বিশেষ জিজ্ঞাসাবাদ দল আসামিদের পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওয়াসিম রুমন আলীকে হত্যার পর তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানের একপর্যায়ে ২৬ আগস্ট বিকেল পৌনে ৬টার দিকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শিবগঞ্জের পুটিমারী বিলের একটি আঁখক্ষেত থেকে রুমন আলীর পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের উপস্থিতিতে নিহতের স্ত্রী নাজমা সুলতানা মরদেহের পরনের প্যান্ট, কোমরের বেল্ট, এক পায়ের স্যান্ডেল এবং সঙ্গে থাকা মোবাইলফোন দেখে মরদেহটি তার স্বামী রুমন আলীর বলে শনাক্ত করেন।
পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) সৌরভ কুমার দত্ত মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আধুনিক জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের ব্যবহৃত অটোরিকশা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের বাটযুক্ত ধারালো ছোটো হাসুয়া, নিহতের পরিহিত সাদা-কালো স্যান্ডেল, মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে রক্ত-মাংস মিশ্রিত মাটি এবং নিহত ও আসামিদের ব্যবহৃত মোবাইলফোনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে পুলিশ।