ঢাকা: বায়ুদূষণের চরম ঝুঁকিতে থাকা মেগা সিটিগুলোর মধ্যে রাজধানী ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই একটি অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থানে রয়েছে।
আজ (১ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের র্যাংকিংয়ে বর্তমানে ঢাকা বিশ্বজুড়ে দশম অবস্থানে রয়েছে, যেখানে এর বাতাসের মান প্রায় সময়ই অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রার ঘরে অবস্থান করে।
বিশ্বমঞ্চে কুচিং, কামপালা কিংবা দিল্লির মতো শহরগুলোর বায়ুমানের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢাকার বাতাসও নগরবাসীর জন্য এক নীরব বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতির জন্য অপরিকল্পিত নগরায়ন, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়া, অনিয়ন্ত্রিত শিল্পকারখানার বর্জ্য এবং যত্রতত্র চলমান উন্নয়ন কাজের ধুনাকে প্রধান দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ইটের ভাটা এবং রাস্তার খোঁড়াখুড়ির কারণে বাতাসে ক্ষতিকারক বস্তুকণা বা পিএম ২.৫-এর মাত্রা মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পায়, যা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগ সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই দূষণের ফলে শুধু শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের রোগই নয়, বরং হৃদরোগ এবং ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, কেবল মৌসুমি পদক্ষেপ বা দায়সারা তদারকি দিয়ে বায়ুদূষণের এই মহাবিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন কঠোর আইনি প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি বহুমুখী পরিকল্পনা। ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত রাস্তায় পর্যাপ্ত পানি ছিটানো, পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল কঠোরহস্তে দমন করা, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো এবং সব শিল্পকারখানায় আধুনিক ফিল্টার ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে নগরজুড়ে সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ছাদবাগান বা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে বায়ুর প্রাকৃতিক পরিশোধন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা জরুরি। সার্বিক এই সংকট মোকাবিলায় নাগরিক সচেতনতার পাশাপাশি নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক ও সমন্বিত উদ্যোগই পারে ঢাকাকে একটি বসবাস উপযোগী, সুস্থ ও নির্মল বাতাসের নগরী হিসেবে ফিরিয়ে আনতে।