Saturday 29 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পর্যটকদের নির্মল আনন্দ দিতে সাজবে পতেঙ্গা সৈকত: ডিসি জাহিদ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৯ আগস্ট ২০২৬ ২১:৩১

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করতে আধুনিক ডাস্টবিন ও ওয়াশ ব্লক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হবে সৈকত এলাকা। খাবারের মান, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট দোকানকে নোটিশ দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাকা দোকানের সংখ্যাও কমানো হবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। ‘নান্দনিক চট্টগ্রাম’ গড়ার কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বিজ্ঞাপন

কর্মসূচির শুরুতে সৈকত এলাকায় একটি র‍্যালি বের করা হয়। পরে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সরকারি কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও নাগরিকেরা ঝাড়ু হাতে সৈকতের ওয়াকওয়ে ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবেশবাদী সংগঠন ক্লিন বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় নাগরিকেরা।

অভিযান চলাকালে জেলা প্রশাসক সৈকতের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখেন। দোকানগুলোর বর্জ্য কোথায় ফেলা হয়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চান তিনি। প্রতিটি দোকানের বর্জ্য নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলার পাশাপাশি পর্যটকেরা যেন যত্রতত্র ময়লা না ফেলেন, সে বিষয়ে তাদের সচেতন করতে দোকানমালিকদের নির্দেশ দেন।

পরে সাংবাদিকদের জাহিদুল ইসলাম বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে সৈকতের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে প্রায়ই অসন্তোষ দেখা যায়।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘পতেঙ্গা সৈকতকে আধুনিক ও মনোরমভাবে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখানকার সাজসজ্জায় পরিবর্তন আনা হবে। আধুনিক ডাস্টবিন ও প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লক স্থাপন করা হবে। আমরা এর একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান চাই।’

পর্যটকদের নির্মল আনন্দ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পতেঙ্গা সৈকতকে বিশ্বের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরতে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ, পুলিশ ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

সৈকতের দোকানমালিকদের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব দোকানমালিকদেরও নিতে হবে। বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারলেই দোকানগুলো ব্যবসা চালাতে পারবে। যেসব দোকান নিয়ম মানবে না, তাদের নোটিশ দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সৈকতে প্রয়োজনের তুলনায় দোকানের সংখ্যা বেশি বলেও মন্তব্য করেন জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এত বেশি দোকানের প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। যারা নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে চলতে পারবে, তাদের দোকান থাকবে। যারা পারবে না, তাদের নোটিশ দেওয়া হবে।’

হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবারের মান ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে মালিক সমিতির সঙ্গে এরইমধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। নির্ধারিত মান অনুযায়ী খাবার পরিবেশন ও স্যানিটেশনব্যবস্থা বজায় রাখা না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দেন তিনি।

পতেঙ্গা সৈকতের নিরাপত্তা বাড়াতে আনসার সদস্য নিয়োগ করা হবে। প্রয়োজনে সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তবে নিরাপত্তাকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের নিষেধ উপেক্ষা করে অনেক পর্যটক সাগরে নেমে পড়েন উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের উদ্দেশে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা এখানে আসুন, আনন্দ করুন এবং নির্মল প্রকৃতি উপভোগ করুন। কিন্তু আপনার জীবন আপনার কাছেই সবচেয়ে মূল্যবান। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্দেশনা মেনে চলুন।’

সৈকতের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের আচরণ নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা থাকবে। কোনো অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

শুধু সরকারি কোনো একটি সংস্থার পক্ষে সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। উন্নত দেশের নাগরিকেরা সৈকতকে নিজেদের সম্পদ মনে করে এর পরিবেশ রক্ষা করেন। এখানেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিকদের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি শুধু আমার বা আপনার দায়িত্ব নয়। সবাই দায়িত্ব পালন করলে সৈকতের পরিবেশ সুন্দর রাখা সম্ভব। আমরা কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পতেঙ্গা সৈকতের পরিবেশ রক্ষা করতে চাই।’

‘নান্দনিক চট্টগ্রাম’ গড়ার লক্ষ্যে গত ২৫ জুলাই জেলাজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করে জেলা প্রশাসন। এর আওতায় সরকারি দপ্তরের ছাদ ও প্রাঙ্গণ পরিষ্কারের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পুকুর এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তার রোধ এবং পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। কর্মসূচিটি সফল করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সব নাগরিকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

সারাবাংলা/এসএন/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর