ঢাকা: বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখ নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘গুমের কাহিনী’ সাজানোর চেষ্টা হতে পারে- বলে আশঙ্কা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত করানো হয়েছে, তদন্তে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মিরাজ শেখকে ঘিরে মোংলায় ঘটে যাওয়া ঘটনাকে বিভিন্ন জলদস্যু গ্রুপের পারস্পরিক বিরোধের ফল হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত ‘মায়ের ডাক’ কর্তৃক আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিরাজ শেখের লোকজন নদীর তীরে একটি পন্টুন স্থাপন করেছিল। ওই পন্টুন ব্যবহার করে জলদস্যুদের জন্য সমুদ্র থেকে রসদ সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। কোস্ট গার্ড পন্টুনটি সরিয়ে দেওয়ার পর এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, ওই ঘটনার জেরে একপর্যায়ে কোস্ট গার্ডের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় কম্পিউটার ভাঙচুর এবং কয়েকজনকে আহত করার অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনায় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পন্টুন অপসারণকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের পাশাপাশি মিরাজ শেখকে কোস্ট গার্ড নিয়ে গেছে এমন অভিযোগও সামনে আনা হয়। তবে বিষয়টি জলদস্যুদের পরস্পরবিরোধী গ্রুপগুলোর সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
মিরাজ শেখ ও তার পরিবারের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মিরাজ শেখ ও তার বাবার রেকর্ডও একই ধরনের ছিল। তার বিরোধী গ্রুপের ক্ষেত্রেও একই ধরনের তথ্য রয়েছে।
তবে এসবের পরও ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্য একটি বাহিনীকে দিয়ে তদন্ত করানো হলেও সেখান থেকে কোনো ফাইন্ডিংস পাওয়া যায়নি। এখানে তো কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে না।
মিরাজ শেখের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে কেউ গুমের কাহিনী তৈরি করার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের অবস্থানকে স্বচ্ছ দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উই আর ট্রান্সপারেন্ট’।
এরপরও কেউ স্বাধীন তদন্ত চাইলে সরকার তাতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনারা কোনো স্বাধীন তদন্ত করতে চান, উই আর রেডি। আমরা স্বাধীন তদন্ত করবো।
প্রসঙ্গত,‘মায়ের ডাক’ কর্তৃক আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠানে সাংসদ সানজিদা তুলির সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ঢাকা -১৪ এর সাংসদ ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম,আলোকচিত্রী ও সাংবাদিক ড.শহীদুল আলম, মানবাধিকার কর্মী নুরুল খান লিটনসহ প্রমুখ।