Sunday 06 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে বাসায় গিয়ে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ, গ্রেফতার ২

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৪১

গ্রেফতার চক্রের ২ সদস্য।

ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রতারণার মাধ্যমে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎকারী একটি চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (৬ সেপ্টম্বর) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এই তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতাররা হলেন- সুনামগঞ্জ জেলার মোছাম্মৎ জিয়াসমিন আক্তার (২১) এবং মো. আব্দুল্লাহ মিয়া (৬৬)। গত ৩ সেপ্টম্বর রাত ২টায় সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানাধীন ফকিরটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, চক্রটি ফেসবুক পেইজে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে দুরারোগ্য রোগসহ নানা সমস্যার চিকিৎসার কথা বলে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করত। বিজ্ঞাপন দেখে কেউ যোগাযোগ করলে তাকে নানা ধরনের সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হতো। পরে কথিত কবিরাজরা চিকিৎসার কথা বলে ভুক্তভোগীর বাসায় গিয়ে বিভিন্ন ঝাড়-ফুঁক ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করত। একপর্যায়ে চিকিৎসার অংশ হিসেবে বাসায় থাকা সোনা-গয়না একসঙ্গে করতে বলা হতো। পরে স্বর্ণালংকারগুলো রুমালে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখা এবং সেই পানি পুরো ফ্ল্যাটে ছিটানোর মতো নানা কৌশলে চিকিৎসা চালানো হতো। এ সময় ভুক্তভোগীর দৃষ্টি অন্যদিকে থাকার সুযোগে কৌশলে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যেত চক্রের সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে একজন ভুক্তভোগী শাহজাহানপুর থানায় গত ২ জুলাই মামলা করেছেন। সিআইডি মামলাটির তদন্ত ভার গ্রহণ করার পর বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানাধীন ফকিরটিলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মোছাম্মৎ জিয়াসমিন আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার সন্দিগ্ধ আসামি মো. আব্দুল্লাহ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় জিয়াসমিন আক্তারের হেফাজত থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত স্বর্ণালংকারের মধ্যে ১টি স্বর্ণের আংটি এবং লকেটসহ ১টি স্বর্ণের চেইন জব্দ করা হয়। জব্দকৃত স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ২১.৮৩ গ্রাম, যার বর্তমান বাজারমূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা প্রতারণার ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং আত্মসাৎকৃত অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধারের চেষ্টা চলমান রয়েছে। আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সারাবাংলা/এমএইচ/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর