ঢাকা: সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ৪৪৭ জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের চাকরি বহাল রাখতে ১৪টি শর্ত মানার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই সঙ্গে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ইসি সচিবালয়ে এসে যোগদান করার জন্যও তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইসি কর্মকর্তারা বিষয়টি জানান। এরই মধ্যে জনবল ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব খোরশেদ আলম নিয়োগপ্রাপ্তদের এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নিয়োগটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী হিসেবে গণ্য হবে এবং যোগদানের পর প্রার্থীদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। কর্তৃপক্ষ চাইলে এই মেয়াদ আরও এক বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিশকালে কারও কাজ অসন্তোষজনক মনে হলে কোনো প্রকার কারণ দর্শানো ছাড়াই এক মাসের মূল বেতন দিয়ে তাকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে। একইভাবে কোনো প্রার্থী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে চাইলে এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে প্রশাসনিক অনুমোদনে অব্যাহতি নিতে পারবেন।
নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী যদি বাংলাদেশের নাগরিক নন এমন কাউকে বিয়ে করেন বা বিয়ের অঙ্গীকার করেন, তবে তার নিয়োগ বাতিল হবে। এ ছাড়া পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট সন্তোষজনক না হলে কিংবা স্থায়ী ঠিকানায় গরমিল থাকলে চাকরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
যোগদানের সময় প্রার্থীদের ঢাকা বা নিজ জেলার সিভিল সার্জনের কাছ থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডোপ টেস্টের রিপোর্টসহ শারীরিক সুস্থতার সনদ, ছবি এবং নাগরিকত্ব ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সব মূল কাগজপত্র জমা দিতে হবে। কাগজপত্রে কোনো ভুল বা জালিয়াতি ধরা পড়লে বা স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে নিয়োগ আদেশ বাতিল হবে।
ইসি স্পষ্ট করেছে যে, আগে অন্য কোথাও কর্মরতদের বিভাগীয় ছাড়পত্র জমা দিয়ে যোগদান করতে হবে। এই পদটি ইসি সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে বদলিযোগ্য এবং যোগদানের জন্য কোনো টিএ/ডিএ বা বিশেষ ভাতা দেওয়া হবে না।
আগামী ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিনিয়র সচিব বরাবর যোগদানপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগদানে ইচ্ছুক নন ধরে নিয়ে নিয়োগ বাতিল করা হবে। প্রচলিত সরকারি বিধিমালা এবং সময়ে সময়ে জারি করা সরকারি আদেশ অনুযায়ী এই পদের সুযোগ-সুবিধা ও সার্ভিস রুল পরিচালিত হবে।