ঢাকা: রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম দীর্ঘ দেড় মাস বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে হাসপাতাল বন্ধ থাকলেও এর প্রভাব দেখা যায়নি সেবা প্রত্যাশী রোগীদের মাঝে। হাসপাতাল খোলার প্রথম দিনই ঢাকার বাইরের জেলাগুলো অর্থাৎ দূর-দূরান্ত থেকে রোগীদের আদ্-দ্বীনে চিকিৎসাসেবা নিতে দেখা যায়। এমনকি, দীর্ঘ দেড় মাস পর এখানে চিকিৎসা নিতে পেরে হাস্যোজ্জ্বল রোগীরা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হাসপাতাল চালুর প্রথমদিন সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এমনকি, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে ৬০৭ জন রোগী সেবা নিয়েছেন।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, কিছুক্ষণ পর পরই হাসপাতালে প্রবেশ করছেন সেবা প্রত্যাশী রোগীরা। আবার অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে ছাড়ছেন হাসপাতাল। নোয়াখালি, শরিয়তপুরসহ দূর-দূরান্ত জেলাগুলো থেকে প্রথমদিনই চিকিৎসা নিতে রোগীরা ভিড় করছেন হাসপাতালে। একটু পর পর আগতরা টিকিট কেটে বহির্বিভাগে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন। তবে কারো মুখেই নেই হাসপাতাল নিয়ে কোনো অভিযোগ। আবার হাসপাতালের কর্মচারীরা সবার সঙ্গেই করছেন ভালো ব্যবহার। আর কিছুক্ষণ পর পরই পরিষ্কার ও ধোয়া মোছা করা হচ্ছে হাসপাতালের ফ্লোর।
রাজধানীর রামপুরা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সুমা সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি আগে এখানে আমার একবার ডেলিভারি করিয়েছিলাম। এখন এসেছি আর কয়েকমাস পর আমারা দ্বিতীয় সন্তান পৃথিবীতে আসবে। এজন্য চেকাপ করাতে এসেছিলাম। এখানে খুবই কম খরচে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়। তাই বার বার আসি। হাসপাতাল নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নাই।’
নোয়াখালী থেকে প্রবাসী আরশাদ তার স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘এখানে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকায় আসি। কম খরচে খুবই ভালো চিকিৎসা দেয় এখানে, যা দেশের কেউ দেয় না। আমার বোনও এখান থেকেই চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।’

আমেনা আক্তার, শরীয়তপুর থেকে এসেছেন চিকিৎসার জন্য। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘এই হাসপাতালে আমার প্রথম সন্তান নরমালে এবং দ্বিতীয় সন্তান সিজারের মাধ্যমে হয়েছে। আগামী মাসে আমার আবারো সন্তান প্রসবের ডেট রয়েছে, তাই আজ চিকিৎসকের কাছে এসেছি। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত রোগীদের জন্য এই হাসপাতাল।’
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সারাবাংলাকে জানান, আজ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৬০৭ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। এছাড়া ৫৬ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ৮ জন গর্ভবতী রোগী সিজারিয়ান ডেলিভারি এবং ৩ জন রোগী নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেছেন।
আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মানবসম্পদ বিভাগের সহকারি ব্যবস্থাপক জাহেদ হোসাইন জানান, ‘সরকার হাসপাতাল বন্ধ করে দেবে আমরা আশা করিনি। এখানে প্রায় ২ হাজার স্টাফ কাজ করেন। হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের চাকরি হুমকির মুখে পড়েছিল। লাইসেন্স ফেরত পাওয়ায় সেই উৎকণ্ঠা কেটে গেছে। এজন্য আমরা সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধ্যন্যবাদ জানাই।’ এখন থেকে নতুন উদ্যোমে আরো ভালোভাবে রোগীদের সেবা দিতে পারব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. জামালুন্নেসা বলেন, ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পুনরায় চালু হওয়ায় আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করছি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন, আলো-বাতাস চলাচলসহ অক্সিজেনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ডাক্তার, নার্স ও কর্মীদের অধিকতর দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে, গত ২৭ মে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ৬ নবজাতক মারা যায়। পরে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে গত ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে মন্ত্রণালয়। এরপর সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স ফেরত দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা চালুর অনুমতি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লাইসেন্স পুনর্বহালের পর মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৮ টা থেকে আবারও পুরোদমে শুরু হয়েছে রোগীদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম।