Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নৌ-জোট গঠনের আহ্বান / ট্রাম্পের ডাকে সাড়া নেই, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় ঝুঁকছে মিত্ররা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ মার্চ ২০২৬ ২৩:১০ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ০৯:১৭

হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী ওমান উপসাগরে অবস্থানরত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর ডেকে নোঙর করে রাখা এফ-১৮ যুদ্ধবিমান। আল-জাজিরার ফাইল ছবি।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের ফলে বিশ্ব তেলের বাজার টালমাটাল। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যায় ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে। ইরান এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি আন্তর্জাতিক নৌ-জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই সমুদ্রপথটি বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করেছেন। তেহরানের কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে তেলের দাম ২০০ ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ট্রাম্পের অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ চাপ

বিজ্ঞাপন

যুদ্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট শেষ বা সমাধানের পথ না থাকায় নিজ দেশেই চাপের মুখে আছেন ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি অভিযোগ করেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা ছিল না।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রায় পুরোটাই ধ্বংস করা হয়েছে, যদিও তারা এখনো ড্রোন বা মাইনের মাধ্যমে ছোটখাটো হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখে। ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যকে এই প্রণালির নিরাপত্তার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, অন্য দেশগুলো এগিয়ে না আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র একাই ইরানের উপকূলে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাবে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার আলী রেজা তাংসিরি যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলোকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, প্রণালিটি সামরিকভাবে অবরুদ্ধ নয়, বরং এটি তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি কেবল আমাদের শত্রু এবং তাদের মিত্রদের জন্য বন্ধ; বাকি বিশ্বের জাহাজ চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত।

চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি

ভৌগোলিক কারণে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত সরু (মাত্র ৩৯ কিমি চওড়া)। নৌ-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প যে জোটের কথা বলছেন, সেখানে ভিন্ন ভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া ইরানের উপকূল খুব কাছে হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের মাধ্যমে যে কোনো জাহাজ ধ্বংস করা ইরানের জন্য সহজ। সাঁজোয়া জাহাজ দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার পাহারা দেওয়া যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি এটি অন্যান্য দেশকেও সরাসরি যুদ্ধে টেনে আনতে পারে।

বৈশ্বিক সাড়া

এখন পর্যন্ত কোনো দেশই ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। যুক্তরাজ্য বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখলেও এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং ফ্রান্স পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এই যুদ্ধে যোগ দেবে না। চীন উভয় পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের সঙ্গে দরকষাকষি

নৌ-জোট গঠনের বদলে অনেক দেশ সরাসরি ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ বেছে নিয়েছে। ভারত ইতিমধ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কার পার করে নিয়েছে। তুরস্কও সরাসরি তেহরানের সঙ্গে দরকষাকষি করে তাদের একটি জাহাজের ছাড়পত্র পেয়েছে। এমনকি ফ্রান্স ও ইতালিও পর্দার আড়ালে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা। 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর