ভারতে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে ব্যাপক বিক্ষোভের পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছেন প্রশ্নপত্র ফাঁস ‘ঘোর পাপ’ এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রকে একজোট হতে হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, এটি ‘দলীয় রাজনীতির বিষয় নয়, জাতীয় স্বার্থের বিষয়’।
প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাতে উল্লেখ করা হয়, বিরোধী দলের দাবি অনুযায়ী নিট (NEET) বিতর্ক নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত।
নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো অবিচার করা যাবে না। কেউ যেন যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। তাদের ভুল পথে চালিত করা সহজ, কিন্তু সঠিক পথ দেখানো কঠিন।’
তিনি এনডিএ সাংসদদের উদ্দেশে বলেন, ‘তাদের উষ্ণতা ও স্নেহ দিয়ে জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকতে হবে এবং যুবকদের আস্থা অর্জন করতে হবে।’
অন্যদিকে, নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ছাত্র বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় কেন্দ্রের ওপর বিরোধী দলের আক্রমণ তীব্রতর হওয়ায়, সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে কেন্দ্র সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নৈতিক দায়িত্ব নেন এবং একাধিক সংশোধনমূলক পদক্ষেপ শুরু করেন।
সরকারি সূত্রগুলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেও আখ্যা দিয়েছে।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর গৃহীত পদক্ষেপগুলোর কথা উল্লেখ করে সূত্র জানায়, সিবিআই তদন্ত করছে এবং এখন পর্যন্ত ১৩ জনেরও বেশি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সূত্রগুলো আরও জানায়, সরকার একটি সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছে।
এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিরোধী দলের নেতারা সরকারের কাছে পাঁচটি দাবি পেশ করেন, যার মধ্যে দলের প্রধানের পদত্যাগ ছিল তালিকার শীর্ষে।
বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে সরকারকে অভিযুক্ত করেছেন। এবং নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছেন।