বুধবার সকাল থেকেই ভারতের নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে তেলাপোকা জনতা পার্টির হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছেন। এ জনতার সংসদ অভিমুখে যাওয়াকে ঠেকাতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ব্যারিকেড এবং দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সরকার।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২২ জুলাই) ককরোচ পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস বিক্ষোভস্থলে ভিড় বাড়ার দৃশ্য সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন।
এএনআই সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিজেপি-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা হুঁশিযারি দিয়েছেন, ‘সরকার যদি তাদের দাবিতে রাজি না হয়, তবে আরও লাখ লাখ মানুষ আসবে।’
ককরোচ জনতা পার্টি নিট (NEET)অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে তাদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিল্লিতে অতিরিক্ত ২০টি বা সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ কোম্পানি) মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। সিআরপিএফ কোম্পানিগুলিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আনা হচ্ছে।
সংসদ ভবন এবং রফি মার্গসহ দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ভারী ব্যারিকেড দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। দিল্লি মেট্রো জানিয়েছে, রাজীব চক, আইটিও এবং মান্ডি হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টসহ ১৬টি স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) প্রধান বিচারপতির প্রতিবাদ মিছিল চলাকালে পার্লামেন্ট স্ট্রিট, কনট প্লেস এবং অন্যান্য থানায় সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ছয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
পিটিআই সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পুলিশ এই ঘটনার পেছনে একটি ‘বৃহত্তর ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র’ হচ্ছে বলে সন্দেহ করছে।

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পর বক্তব্য রাখছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। ছবি: পিটিআই
এদিকে, কেরালা, জম্মু ও কাশ্মীর এবং আসামসহ সারাদেশে কংগ্রেস ইউনিটগুলোর ছাত্রদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ এবং দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাহুল, প্রিয়াঙ্কা এবং অন্যান্য কংগ্রেস নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ করার জন্য সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকেও আটক করা হয়।
সোমবার ‘চলো সংসদ’ প্রতিবাদ মিছিল চলাকালে অন্তত ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। এরপরে সিজেপি, আম আদমি পার্টি এবং অন্যান্যরা আটক ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।
হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাকে যোগ দেন। দিল্লি পুলিশ এই পদযাত্রার অনুমতি দেয়নি এবং ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছিল। মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও, বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে যাওয়ার আগে যন্তর মন্তরে সমবেত হন।
দুপুর নাগাদ, কনট প্লেস, প্যাটেল চক, রাইসিনা রোড, ইন্ডিয়া গেট এবং অশোকা রোডসহ বিভিন্ন এলাকা সংঘর্ষের স্থানে পরিণত হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদনে গ্যাস ব্যবহার করে। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হন এবং তাদের লেডি হার্ডিঞ্জ ও আরএমএল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আহত এক নারী আরএমএল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, মিছিল চলাকালে ১১৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা পাথর ও অন্যান্য বস্তু দিয়ে কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে অবাধ্য ও সহিংস আচরণ করেছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে কংগ্রেসের বিক্ষোভের তীব্র সমালোচনা করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি বলেন, ‘সংসদে বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ছাত্রদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’