দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ‘ক্যাপ ফেরে’ উপদ্বীপে (লেজ-ক্যাপ ফেরে) ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় পুরো উপদ্বীপ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় শত শত পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে জরুরি সহায়তাও চেয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গিরোন্দ অঞ্চলের সাউমোস এলাকায় শুরু হওয়া দাবানল কয়েক দিন ধরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আগুনে প্রায় ৮ হাজার ৭০০ হেক্টর (প্রায় ২১ হাজার ৫০০ একর) বনভূমি পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী কাজ করলেও প্রবল বাতাস ও শুষ্ক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এলাকার প্রিফেক্ট জিল ক্লাভর্যুল বলেন, বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত প্রতিকূল।
বিসকারোস এলাকায় দাবানলের কারণে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ক্যাম্পসাইট ও আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি একটি শিশুদের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প এবং বয়স্কদের একটি আবাসিক পরিচর্যা কেন্দ্রের বাসিন্দারাও রয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ফ্রান্সের নুভেল আকিতেন অঞ্চলের প্রশাসন জানায়, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে উপদ্বীপটি সম্পূর্ণ খালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে চারটি গ্রামের ঘাট থেকে নৌযানের মাধ্যমে মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত একমাত্র সড়কপথ দিয়েও এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপে বহু মূল্যবান আবাসন, অবকাশযাপন কেন্দ্র, ক্যাম্পসাইট এবং ভাড়ার বাড়ি রয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে হাজারো পর্যটকের উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কৃষকদের পানিবাহী ট্যাংক নিয়ে দমকল বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম সক্রিয় করার অনুরোধ জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই ক্রোয়েশিয়া থেকে দুটি কানাডেয়ার অগ্নিনির্বাপণ বিমান, পর্তুগাল থেকে দুটি এয়ার ট্র্যাক্টর বিমান এবং চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকে দুটি ভারী ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ফ্রান্সে পৌঁছাবে।’
অন্যদিকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী দাবানলের বিরুদ্ধে কার্যত একটি যুদ্ধ লড়ছে। পুরো জাতি তাদের পাশে রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি ফ্রান্স। চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে ধারাবাহিক তিনটি তাপপ্রবাহের ফলে খরা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে পানির সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বনাঞ্চল ও উদ্ভিদ অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর দাবানলে ইতোমধ্যেই গত দুই দশকের বার্ষিক গড়ের তুলনায় বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে দেশটির দমকল ও নিরাপত্তা বাহিনী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।