গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যার পঞ্চম দিনে নেপাল ও তিব্বতে মৃতের সংখ্যা ৭৫০ তে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন ৩০৪৪ জন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে রোববার (৩০ আগস্ট) নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এদিকে, বৃষ্টির কারণে নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারীরা উঁচু স্থানে সরে গেছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) থেকে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এবং বুধবারের (২৬ আগস্ট) হিমবাহ ধসে নেপাল-চীন সীমান্তে একটি হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। সেই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় নেপালের নদীগুলোতে উপচে পড়ে নতুন বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান বেশ কয়েকবার স্থগিত করা হয়েছে।
রেড ক্রসের ধারণা অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ৯০০০০ এরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই শনিবার (২৯ আগস্ট) এক টেলিফোন আলাপে তার নেপালী প্রতিপক্ষকে বলেছেন, এই ভূমিধস সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের ‘সবচেয়ে গুরুতর আন্তঃসীমান্ত দুর্যোগ’। এবং এর উদ্ধার অভিযান ছিল নজিরবিহীনভাবে কঠিন ও জটিল।

দমকলকর্মীরা নদীর তীরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। রয়টার্স
হিমালয়ের নদীগুলো বেয়ে বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নেমে আসার পর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গগুলোতে আটকা পড়েছে শত শত মানুষ। নেপালের উদ্ধারকাজ এখন মূলত এই মানুষগুলোকে উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এগোচ্ছে।
দেশটির দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ হয়েছে, ২,৪৯৮ জন নিখোঁজ এবং ৭,৫১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিব্বতের কর্মকর্তারা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, চীনে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জিরং কাউন্টিতে ১৬ জন মারা গেছেন এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
চীনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের দিকে নিখোঁজ হওয়া ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে ১০৪ জন নেপালের, ৪৯ জন প্রতিবেশী ভারতের, ৩৩ জন লাটভিয়ান, ১৮ জন আমেরিকান এবং ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন।
নিখোঁজ নাগরিক ও বিদেশিদের শনাক্ত করতে বেইজিং ও কাঠমান্ডু একসঙ্গে কাজ করছে। একসঙ্গে দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদার করছে বলে সিসিটিভি জানিয়েছে।