Thursday 01 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীর সঙ্গে অভিযুক্তের বিয়ে বন্ধের রিট খারিজ

স্টাফ করেসপন্ডেট
১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৫ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:২৫

হাইকোর্ট। ফাইল ছবি

ঢাকা: ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীর সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিয়ে বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মো. রাকিবুল হাসান।

অ্যাডভোকেট মো. রাকিবুল হাসান জানান, রিটে আইন সচিবের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র সচিবকে প্রথম বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এ কারণে আদালত রিটটি শুনানির জন্য উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেন। তিনি বলেন, আবেদনটি সংশোধন করে দ্রুতই আবার আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গত বছরের ২২ অক্টোবর ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর বিয়ে বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি), কারা অধিদফতরের মহাপরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে বিবাদী করা হয়।

অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ভুক্তভোগীর বিয়ে সংক্রান্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিট আবেদনটি করা হয়।

রিটে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলার বাদীর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নোবেলের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন এবং মামলাটি বিচারাধীন ছিল।

আসামিপক্ষ আদালতে লিখিতভাবে বাদীকে বিয়ে করার অনুমতি চায়। পরে বাদী ও আসামি উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এ ঘটনাটি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়।

রিটে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও কারাগার ও আদালত প্রাঙ্গণে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর কিংবা কন্যাশিশুর বিয়ের একাধিক উদাহরণ রয়েছে। বিয়ের মাধ্যমে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধকে সামাজিক ও আইনগতভাবে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে অনেক অপরাধী সহজেই বিচারপ্রক্রিয়া এড়িয়ে যাচ্ছে।

রিটে আরও বলা হয়, ধর্ষণ বাংলাদেশের আইনে একটি গুরুতর ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ভুক্তভোগী পক্ষ সম্মত হলেও আইন তার নিজস্ব অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে না। বিয়ের মাধ্যমে ধর্ষণের মতো অপরাধ লঘু হয় না, অপরাধ অপরাধই থেকে যায়।

এ প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর বিয়ে বন্ধে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে।

সারাবাংলা/টিএম/এএ
বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো

সম্পর্কিত খবর