ঢাকা: র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই), ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) এবং ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সঙ্গে অংশ নেওয়ার অনুমতি পেয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
বুধবার (২২ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জেআইসিতে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিকালে আসামিপক্ষের মৌখিক আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল এ অনুমতি দেন।
শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু সাংবাদিকদের জানান, ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা ডিজিএফআইসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বন্দিশালা পরিদর্শনে যাবেন এবং সেখানে ডিফেন্স আইনজীবীদেরও উপস্থিত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘উভয়পক্ষের উপস্থিতি বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।’ পাশাপাশি তিনি পরিদর্শনের সময় ট্রাইব্যুনালের বিবেচনায় সাংবাদিকদেরও সঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ হয়।
এদিন মামলার ষষ্ঠ সাক্ষীর জেরা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এ অবস্থায় প্রসিকিউশন সময়ের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল জেরার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ টিএফআই, জেআইসি এবং ডিবির কথিত গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত দেন।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধীমতের ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত বিভিন্ন বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো।’ মামলার সুষ্ঠু বিচার ও সত্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে এসব স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন প্রয়োজন বলে তিনি আদালতকে জানান।
বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টিএফআই ও জেআইসিতে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দু’টি মামলার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে। এসব মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।