Thursday 30 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চেক ডিজঅনার মামলার উদ্দেশ্য অর্থ আদায়, কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩০ জুলাই ২০২৬ ১৩:৪৫

ঢাকা: নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের অধীনে দায়ের হওয়া চেক ডিজঅনার মামলার মূল লক্ষ্য হলো চেকের অর্থ আদায় নিশ্চিত করা, আসামিকে কারাদণ্ড দেওয়া নয় এমন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বরিশালের এক গবাদিপশু ব্যবসায়ীর করা ফৌজদারি রিভিশন আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ২২ জুলাই এ রায় দেওয়া হয়।

রায়ের লিখিত অনুলিপি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত হয়েছে।

বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ‘মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য’ মামলার রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন।

রায়ে আদালত বলেছেন, এ ধরনের মামলায় কারাদণ্ড কেবল ব্যতিক্রমী ও বিশেষ পরিস্থিতিতে দেওয়া উচিত।

বিজ্ঞাপন

রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বহাল রাখা হলেও আসামির ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বাতিল করেছেন হাইকোর্ট।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. সাইফুল আলম। ঋণদাতার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দেব দুলাল বড়াল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সফিকুল ইসলাম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফারহানা আবেদীন, হেমায়েত উদ্দিন ও কে এম সাইফুল ইসলাম।

রায়ে আদালত ‘আমান উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র’ মামলার নজির উল্লেখ করে বলেন, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় কারাদণ্ড একটি কঠোর শাস্তি, যা থেকে কোনো কার্যকর শাস্তিমূলক উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না। এ বিষয়ে পূর্ববর্তী রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেন আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, গবাদিপশুর ব্যবসার জন্য মো. আলাউদ্দিন বাদীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি রূপালী ব্যাংক, বরিশাল বাজার রোড শাখার একটি চেক দেন। ২০২০ সালের ২ নভেম্বর চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটি ডিজঅনার হয়।

পরবর্তীতে আইনি নোটিশ দেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় একই বছরের ২০ ডিসেম্বর বরিশালের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করা হয়। পরে মামলাটি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন হয়।

২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি ওই আদালত আলাউদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। পরে তিনি অর্থদণ্ডের অর্ধেক অর্থাৎ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে আপিল করলে বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালত ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর আপিল খারিজ করে বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন।

এরপর হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন আলাউদ্দিন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের অর্থদণ্ড বহাল রাখলেও কারাদণ্ডের অংশ সংশোধন করে তা বাতিল করেন।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে আসামিকে বাকি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় তাকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড ভোগ করলেও অর্থদণ্ড পরিশোধের দায় থেকে তিনি মুক্ত হবেন না। প্রয়োজন হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী আদালত ওই অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

 

সারাবাংলা/টিএম/ এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর