Tuesday 04 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মেয়াদ শেষের আগেই এমপির স্ত্রীকে সভাপতি নিয়োগের আদেশ হাইকোর্টে স্থগিত

‎সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৪ আগস্ট ২০২৬ ১২:৫৪ | আপডেট: ৪ আগস্ট ২০২৬ ১৪:২০

সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং সাবিনা সিদ্দিকা।

‎ঢাকা: ‎মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতিকে সরিয়ে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে নতুন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিতর্কিত সিদ্ধান্তটির ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

‎মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া কেন বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন বিচারিক আদালত।

‎হাইকোর্টের এই স্থগিতাদেশের ফলে গত ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত সভাপতি পরিবর্তনের আদেশের কার্যকারিতা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে। এর ফলে আগের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালনে কোনো আইনি বাধা থাকছে না।

‎মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খানকে দুই বছরের মেয়াদে উক্ত কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মনীতি অনুযায়ী তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল। কিন্তু তার মেয়াদের আট মাস বাকি থাকতেই কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া তাকে পদ থেকে অপসারণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত এক নতুন আদেশের মাধ্যমে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে গভর্নিং বডির নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

‎এই বেআইনি আদেশের বিরুদ্ধে রিটকারী আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান জানান, চলমান একটি বৈধ কমিটির মেয়াদ থাকা অবস্থায় মাঝপথে এভাবে সভাপতি পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও আইনবহির্ভূত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) না দিয়ে কিংবা নিজের বক্তব্য পেশ করার ন্যূনতম সুযোগ না দিয়েই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এটি সরাসরি ‘প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি’র (Principle of Natural Justice) চরম লঙ্ঘন। এই সার্বিক বিষয়গুলো আদালতের কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হওয়ায় হাইকোর্ট পূর্বের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।


বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর