ফরিদপুর: ফরিদপুরে প্রথম স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলায় স্বামী লিটন মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৪ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া অপর একটি ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে জেলার বিশেষ দায়রা জজ ও পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত এই রায় দেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি লিটন মিয়া জেলার নগরকান্দা উপজেলার শশা গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি লিটন মিয়া ঢাকার তুরাগ থানা এলাকার ভাটুলিয়া গ্রামের মৃত কাদের মিয়ার মেয়ে কোহিনুর বেগমকে বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে আসছিলেন। আসামি দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে পরিবারের সকলে মিলে কোহিনূরকে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার বাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১২ সালের ৭ এপ্রিল রাতে ৪ বছরের মেয়ে কাশফিয়াকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন কোহিনূর বেগম। পরে ভোরে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে কোহিনূরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
প্রথমে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলা হলেও ময়নাতদন্তের পর জানা যায় যে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরে নিহতের ভাই রহমত উল্লাহ বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় যৌতুকসহ হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সাজার বিষয়ে নিশ্চিত করে জেলার বিশেষ দায়রা জজ ও পারিবারিক আপিল আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান বিকু জানান, যৌতুকের দাবিতে প্রথম স্ত্রীর ওপর নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক স্ত্রী-হত্যার অভিযোগে স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানাসহ অন্যান্য সাজার আদেশ দেন। আসামি রায়ের সময় পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত।