Wednesday 01 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জাতিসত্তার বৈচিত্র্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৫ মে ২০২৬ ২৩:১৬ | আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ১১:১৫

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

ঢাকা: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের ভাষা, ধর্ম, লিঙ্গ ও জাতিসত্তার বৈচিত্র্যকে বিভাজনের হাতিয়ার নয়, বরং জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করতে হবে। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ একটি দেহের মতো। এই দেহের প্রতিটি অংশ যেমন অপরিহার্য, তেমনি দেশের প্রতিটি জাতিসত্তা, ধর্মীয় ও ভাষাগত গোষ্ঠীও বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রাজধানীর পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে সিএইচটি ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি আয়োজিত “বিজু, বৈসুক, সাংগ্রাই, বিষু ও চাংক্রান পুনর্মিলনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক উৎসব”-এ তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, মাধবী মার্মা ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহবায়ক মেজর (অব.) তপন বিকাশ চাকমা।

বিজ্ঞাপন

তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণার মাধ্যমে তার সমাধান দিয়েছিলেন। এই দর্শনের ভিত্তিতে ভাষা, বর্ণ, ধর্ম বা জাতিসত্তা নির্বিশেষে সকল নাগরিক সমান মর্যাদার অধিকারী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে প্রত্যাবর্তনের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে পাহাড়ি ও সমতলের জনগণকে সমান নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সরকার ভবিষ্যতেও সমঅধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যে সমাজ যত বেশি বৈচিত্র্য ধারণ করতে পারে, সেই সমাজ তত বেশি শক্তিশালী হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন ভাষা, বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থান দেশটিকে শক্তিশালী করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘যারা বৈচিত্র্যকে বিভাজনের পথে নিতে চায়, তারা দেশবিরোধী। আর যারা দেশের প্রতিটি জাতিসত্তা ও সম্প্রদায়কে সম্মান করতে চায়, তারাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক।’

মন্ত্রী বলেন, পিছিয়ে থাকা জাতিগোষ্ঠীগুলোকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থা থাকা উচিত। তিনি বলেন, ‘সমান অবস্থানে থাকা মানুষের ক্ষেত্রে মেধাই একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে। কিন্তু পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ মেধাবিরোধী নয়; বরং জাতীয় সংহতির জন্য অপরিহার্য।’

ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যদের যে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগের পাশে থাকার কথা বলেন তথ্য মন্ত্রী।

তিনি জুলাই অভ্যুত্থান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ সুষম ও সমতাভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বাসী। এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, বিশেষ করে খেয়াং, বম ও চাক সম্প্রদায়ের মানুষকে দেশের মূল ধারার উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত করতে আমাদের সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ বিপুল ভোটে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের তিনটি আসনেই বিজয়ী করেছেন। এজন্য তিনি পাহাড়ের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও সামগ্রিক কল্যাণে নিরলস কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এসএস
বিজ্ঞাপন

জুলাই সাহসের নাম
১ জুলাই ২০২৬ ১৬:০৪

আরো

সম্পর্কিত খবর