Saturday 15 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে বাজেটে বরাদ্দ রাখার আহ্বান

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৮ জুন ২০২৬ ১৪:৪৭ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ১৫:৫৭

সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

অতীতে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে আমাদের তৃণমূলের হাজার হাজার নেতাকর্মী, গ্রামের গরিব নেতাকর্মীরা যারা নির্যাতিত হয়েছে, তাদের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। এখনো তারা ছিন্নমূল অবস্থায় রয়েছে, তাদের কথা আমাদের ভেবে দেখতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

শামা ওবায়েদ বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেট কোনো ‘দিবাস্বপ্ন’ নয়; এটি একটি বাস্তবভিত্তিক, জনবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল বাজেট, যা বর্তমান সরকার সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।”

তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে নানা প্রতিকূলতা, রাজনৈতিক নির্যাতন ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রণয়ন করে গেছেন। প্রস্তাবিত বাজেট সেই দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনারই প্রতিফলন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিরোধী দল বাজেটকে ‘চ্যালেঞ্জিং’ ও ‘দিবাস্বপ্ন’ আখ্যা দিলেও এটি বাস্তবসম্মত বাজেট।”

বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ইতিহাসই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে।’

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘একটি বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তার ভাষায়, এ বাজেট মানবিক, উদ্ভাবনী, অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রগতিশীল ও নারীবান্ধব।’

তিনি বলেন, ‘বাজেটে বিনিয়োগকেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধি, ওয়ান স্টপ সার্ভিস, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং যুব ও নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

বাজেটের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি খাতে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ২৫ লাখ ২২ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ এবং কৃষক কার্ড কর্মসূচি রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে ই-হেলথ কার্ড চালু, বিভিন্ন বিভাগে শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা খাতে দুই লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম ও মিড-ডে মিল, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পেপ্যাল ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালু, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুযোগ বৃদ্ধি এবং দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সংযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংস্কার, পরিবহন খাতে ইলেকট্রিক বাস ও নারী-শিশুদের জন্য পিংক বাস চালু এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দকে তিনি জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাজার থেকে সরকারি ঋণ গ্রহণের সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি ভোগনির্ভর নয়, বরং কৌশলগত বিনিয়োগ। সরকারি ঋণের পরিমাণ জিডিপির তুলনায় এখনও টেকসই পর্যায়ে রয়েছে এবং এ অর্থ উৎপাদন, সরবরাহ বৃদ্ধি ও বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যবহৃত হবে।’

তিনি জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের জন্য বাজেটে বরাদ্দকে স্বাগত জানান।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর