ঢাকা: রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনার আজ এক বছর। গত বছরের এই দিন দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল পরিণত হয়েছিল আগুন আর আর্তনাদে ভারী মৃত্যুপুরীতে। এ দুর্ঘটনায় ২৮ কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ প্রাণ হারান ৩৬ জন।
মর্মান্তিক এ ঘটনার পর পুরো দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। দগ্ধ ও আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কর্মচারীদের দ্রুত রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে অনেকেই বাড়ি ফিরলেও তাদের শরীরে এখনো রয়ে গেছে পোড়া ক্ষতের স্থায়ী চিহ্ন। এখনও তাদের তাড়া করে বেড়ায় সেই বিভীষিকাময় দিন।
ঘটনার পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। ঘটনার প্রায় তিন মাস পর ১৫০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও ১৬৮টি তথ্য উদ্ঘাটনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ৩৩টি সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, উড্ডয়নজনিত ত্রুটির কারণে প্রশিক্ষণ চলাকালে পরিস্থিতি পাইলটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। জননিরাপত্তা রক্ষায় বিমানবাহিনীর সব প্রাথমিক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ঢাকার বাইরে পরিচালনার সুপারিশ করে কমিটি। একইসঙ্গে বরিশাল ও বগুড়ার বিমানঘাঁটির রানওয়ে সম্প্রসারণের তাগিদ দেওয়া হয়, যাতে নিরাপদ পরিবেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়।
এদিকে, এক বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবার, আহত শিক্ষার্থী ও তাদের স্বজনদের কাছে ২১ জুলাই এখনো এক বিভীষিকার দিন। অনেক শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেনি। পরিবার আজও তাদের হারানো সন্তানের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সেদিনের সেই মর্মান্তিক ঘটনার প্রথম বর্ষপূর্তিতে নিহতদের স্মরণ এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাতে দুই দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির প্রথমদিনে সোমবার (২০ জুলাই) মাইলস্টোনের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসসহ প্রতিষ্ঠানের সব শাখার বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাহিত নিহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কবর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জিয়ারত এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। দ্বিতীয় দিনে আজ মঙ্গলবার মাইলস্টোনের সব শাখায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরার দিয়াবাড়িতে দুর্ঘটনাস্থল ক্যাম্পাসে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে সশ্রদ্ধ সালাম, শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দোয়া মাহফিল।