ঢাকা: আমি দেখছি কিছুই বদলায়নি, তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বই দেশে পরিবর্তন আসবে’-এমন প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কাকরাইলের তথ্য ভবনে এই আলোচনা সভা হয়। এই আয়োজনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়; উদ্বোধন করা হয় আলোকচিত্র প্রদর্শনীর। আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমার এই ৪-৫ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা থেকে দেখছি যে কিছুই বদলায়নি। আগে যারা ঘুস খেত, তারা ঘুস খাওয়ার ফন্দিফিকির করছে। একইভাবে যারা ভালো একটা কাজ আটকে দিত, তারা এখনো তা আটকে দিচ্ছে। একইভাবে লোকজন ভোল পাল্টাচ্ছে, ভোল পাল্টানো লোকজনই এখন অনেক বেশি জুলাই যোদ্ধা হয়ে গেছে। এই কথাগুলো আক্ষেপে বলছি। আক্ষেপে বলছি কেন জানেন? আমার বয়স অনেক। আমি সত্যিকার অর্থেই এবার পরিবর্তনটা দেখতে চেয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত সেটা আমি দেখছি না । তবে আমি আশাবাদী এই কারণে যে, আমি পরিবর্তন দেখছি একজন মানুষের মধ্যে। সেটা তারেক রহমান সাহেবের মধ্যে। তিনি পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন, তিনি নতুন নতুন নজির স্থাপন করছেন, সেই নজিরকে যদি আমরা সামনে নিয়ে যাই সবাই মিলে তাহলে আমার মনে হয় যে হয়ত দেশে পরিবর্তনটা হবে। সবাই মিলে তাকে (তারেক রহমান) সমর্থন দেওয়া দরকার।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রসঙ্গ টেনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, এই যে ধরেন উনি (তারেক রহমান) বলছেন যে পরিষ্কার করো। বাচ্চাদের বলছেন যে তোমরা কিছু ফেলতে গেলে ওকে আটকাবে বলবে যে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন। সিটি করপোরেশনকে বলছে যে তোমরা পরিষ্কার করো। কিন্তু হচ্ছে, যতক্ষণ উনি থাকছেন বা কেউ থাকছে ততক্ষন। তারপরে আবার সেই থেকে যাচ্ছে। আমাদের মন মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। সমাজের সব ক্ষেত্রে যদি পরিবর্তন আমরা আনতে পারি তাহলে জুলাই বিপ্লব সফল হবে, এর পরিণতি দেখতে পারব। আমি মনে করি যে, বাংলাদেশের মানুষ অনেক বেশি পরিশ্রমী, ত্যাগী। তারা পরিবর্তন আনতে চায়। যে যেখানে আছি আমরা যদি সঠিকভাবে কাজ করতে পারি তাহলে নিশ্চয় পরিবর্তন আসবে। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী কাজ করে চলেছেন এবং প্রতিমুহূর্তে চেষ্টা করছেন কীভাবে পরিবর্তন আনা যায়।
প্রশাসনে পুরোনো সংস্কৃতি চলছে উল্লেখ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের মন-মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন, অন্যথায় জুলাইয়ের আত্মত্যাগ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে আনবে না।
সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামে বিরোধীদলের নেতা-কর্মীরা কারাবরণ, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। এই দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের কৌশল ও ছাত্রদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্দোলন সর্বজনীন রূপ পায়। শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচার পতনের পথ তৈরি হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে কেন্দ্র করে যেন কেউ কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান একেএম আবদুল হাকিম, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, শহিদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ প্রমুখ বক্তব্য দেন।