Wednesday 05 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পথ হারালে এই জাদুঘরে এসে পথ খুঁজে নেব: ড. ইউনূস

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৫ আগস্ট ২০২৬ ১২:০৮

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে শুধু অতীতের স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রেরণার কেন্দ্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা পথ হারিয়ে ফেললে এখানে এসে পথ খুঁজে নেব। আমাদের চিন্তায় যদি কোনো গাফিলতি আসে, এখান থেকেই তার ঠিকানা খুঁজে আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করবো। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জাদুঘর থাকলেও এই জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে বহু বছরের পুরোনো ইতিহাস নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সেসবের স্মারক, দলিল, নিদর্শন ও মানুষের অনুভূতি সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ঘটনা ঘটেছে আর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেই ঘটনার প্রতিটি নমুনা ও ইতিহাস সংগ্রহ করে জাদুঘরে নিয়ে এসেছি, যা আমাদের ইতিহাস সংরক্ষণের এক নতুন অধ্যায়। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকেই কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই নিজের অনুভূতি লিখে গেছেন এবং পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে কেন রাজপথে নেমেছেন সেটিও তারা চিঠিতে তুলে ধরেছেন। এসব দলিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণ যেন সেই চিঠির লেখকের মতো হয় এবং তারা যেন বলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও সাধারণ নাগরিকের অন্তত একবার এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। শুধু দেখে চলে যাওয়া নয়, তারা যেন এখানে বসে চিন্তা করে নিজেদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা লিখে রেখে যায়। এই জাদুঘর ভবিষ্যতে সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত, চিত্রকলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেরও একটি প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে। জাদুঘরে নির্মিত প্রতীকী কবরগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিটি কবরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহীদের পরিচয় ও আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকবে যেন মানুষ জানতে পারে কীভাবে এবং কেন তারা জীবন দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, তারা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক কর্মী ছিল না, তারা ছিল সাধারণ পরিবারের সাধারণ ছেলে-মেয়ে। তারা রাজপথে নেমেছিল কারণ তারা বিশ্বাস করতো এই বাংলাদেশ আর আগের মতো চলতে পারে না এবং আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।

জাদুঘর নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে এই নোবেলজয়ী অধ্যাপক বলেন, প্রতিটি নিদর্শন সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময়, শ্রম ও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং সেই কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ দেশের মানুষের সামনে ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ দলিল তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে। বক্তব্যের শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের প্রতিটি মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্তত একবার এখানে আসবেন এবং শুধু দেখার জন্য নয়, কেন এটি ঘটেছিল, কীভাবে ঘটেছিল এবং এখান থেকে আমরা ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবো তা ভাববেন।

সারাবাংলা/এফএন/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর