ঢাকা: বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ দ্রুততম সময়ে পরিশোধে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম। যুগ যুগ ধরে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।’
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছিল।’
মাহ্দী আমিন অভিযোগ করেন, পরবর্তী সময়ে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয় এবং প্রাপ্য সুবিধা পেতে ঘুস লেনদেন ও দলীয়করণের মতো ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সাল থেকে এ সুবিধা কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকেরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি দ্রুত শিক্ষকদের পাওনা অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা দেন। এর ধারাবাহিকতায় সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার কোটি টাকার সংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের সম্পূর্ণ পাওনা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। বর্তমানে ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এ সুবিধার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং জমা পড়া ১ লাখ ২৩ হাজার আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের হয়রানি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ছাড়াই শিক্ষকরা যাতে সরাসরি তাদের পাওনা অর্থ পান, সে জন্য ইএফটি (EFT) ও আইবাস++ (iBAS++) পদ্ধতি নিশ্চিত করা হয়েছে।’
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘শিক্ষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, তাদের আর্থ-সামাজিকভাবে ক্ষমতায়ন এবং সর্বাত্মকভাবে পাশে থাকা সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাশেও সরকার সবসময় অটল থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকেরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে, শিক্ষকেরা এগিয়ে গেলে সমগ্র জাতি এগিয়ে যাবে। তাদের হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই আগামীর বাংলাদেশ সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর হবে।’
শিক্ষকদের সার্বিক কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।