Thursday 27 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিতের দাবি ‘সুজন’-এর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৭ আগস্ট ২০২৬ ১৩:২১

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: প্রস্তাবিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনটির মতে, খসড়া আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এর প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সুজন জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্যান্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশনের সরাসরি ও স্বাধীন তদন্তের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। খসড়া আইনে অভিযোগ প্রথমে সংশ্লিষ্ট বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়ে তাদের প্রতিবেদন নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে, যা নিরপেক্ষ তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে বলে সংগঠনটির আশঙ্কা।

বিজ্ঞাপন

তবে সাধারণ অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশনের তদন্ত, সাক্ষ্য গ্রহণ, দলিল ও প্রমাণ সংগ্রহ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ক্ষতিপূরণ সুপারিশ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানোকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে সুজন। কিন্তু গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা সীমিত থাকলে এসব ইতিবাচক পরিবর্তনের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

সংগঠনটি বলেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত ২০২৫ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়ায় কমিশনকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি ও স্বাধীন তদন্তের যে ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বর্তমান আইনে বজায় রাখা বা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কমিশনের সদস্য নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থ বরাদ্দে সরকারের ওপর নির্ভরশীলতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগের সুযোগ কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে বলে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অতীতে বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুম, নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, কারা হেফাজতে মৃত্যু এবং অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা রাষ্ট্রীয় সংস্থা যেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্য মানবাধিকার কমিশনকে কার্যকর ও স্বাধীন ক্ষমতা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে সুজন।

একই সঙ্গে সংগঠনটি প্রস্তাবিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে। সুজনের মতে, গুমের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো সংস্থা বা বাহিনী যেন তদন্ত নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সেজন্য স্বাধীন তদন্তের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিধান আইনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া, আইন দুইটি তড়িঘড়ি করে পাস না করে সংসদীয় কমিটিতে বিস্তারিত পর্যালোচনা এবং মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী, বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে সুজন।

 

সারাবাংলা/টিএম/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর