Thursday 03 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫৫ | আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৪০

সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা: ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’— এই নীতিতে বিশ্বাস করে সরকার সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রমতে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত। তার আবির্ভাবের পর মথুরার অত্যাচারী শাসক কংসের পতন ঘটে।’

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে গণতন্ত্রকামী জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ‘কংসের’ মতো এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের ওপর চেপে বসেছিল। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে সেই ‘কংসরূপী ফ্যাসিস্টদের’ পতন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এখন দেশ পুনর্গঠনের পালা।’

ধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলনই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য।’ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু পরিচয়কে মুখ্য না করে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র ও সমাজে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ-বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর রাজনৈতিক দর্শন গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয়— আমরা বাংলাদেশি।’

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকেই দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে। তবে সময়ে সময়ে ‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ-বিরোধ সৃষ্টি জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছে।”

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজবিরোধী অপশক্তি যাতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং কেউ যেন বিরাজমান সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখা নাগরিক হিসেবে সবার দায়িত্ব।’

জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।

দেশে গুজব ও উসকানি ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানাভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টাও চলছে। কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিদ্বেষ যাতে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। এ লক্ষ্য পূরণে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং সকল ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে রাষ্ট্র তার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। একই সঙ্গে নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করবে।’

‘রাষ্ট্র-সরকার ও নাগরিকদের’ পারস্পরিক দায়িত্ব, আস্থা ও আলাপের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে উঠবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র ও সমাজে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এজন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহায়তা।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশ আপনার, আমার, আমাদের সকলের। নাগরিক হিসেবে এই দেশে আপনার-আমার-আমাদের সকলের অধিকার সমান।’ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, বিএনপি বিশ্বাস করে— ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার হলেও নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’

জন্মাষ্টমীর পর আসন্ন দুর্গাপূজার কথা উল্লেখ করে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে সব ধর্মীয় উৎসব পালনের আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সবাইকে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান এবং আসন্ন দুর্গোৎসবের আগাম শুভেচ্ছা জানান।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এমএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর