Friday 04 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চট্টগ্রামের খাল-জলপথ পণ্য পরিবহনে কাজে লাগাতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৩২

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের খাল ও জলপথকে কাজে লাগিয়ে পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলপথকে পণ্য পরিবহনে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে সরকার কাজ করছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে এক সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম নগরীর সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পানি সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সই করা হয়।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের মধ্যে তিন বছর মেয়াদি এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। উদ্যোগটিতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশে অবস্থিত নেদারল্যান্ডস দূতাবাস।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে পানির সংকট জনগণের জন্য বড় দুর্ভোগ। যে দুই এলাকা নিয়ে পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেখানে প্রায় পানি নেই বললেই চলে। জনগণের কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় কীভাবে স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করেছি। তবে এটি সরকার একা করতে পারবে না। এ জন্য অংশীদারত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আগে সরকারের পক্ষ থেকে সবকিছু করা হলেও এখন সরকারের পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব নয়। করদাতাদের অর্থ সঠিক জায়গায় ব্যয় করতে হবে। এ কারণে পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মডেল প্রয়োগ করা হচ্ছে।

পিপিপি মডেলে অর্থায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিও- সব পক্ষ মিলে অর্থায়ন ও সহযোগিতা করবে। এর মাধ্যমে যে মডেল তৈরি করা হচ্ছে, সেটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, কিন্তু পরে সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। পিপিপি মডেলে পুরো বিষয়টি একটি প্যাকেজের আওতায় করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যা নিয়ে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি বর্ষায় নগরীর পানি নিষ্কাশনের সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ করা হবে।

নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশটিতেও একসময় খালগুলো ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে যেত। এখন সেগুলো পরিষ্কার করে পানি পরিবহনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি সেখানে নৌযানের মাধ্যমে মানুষ ও পণ্য পরিবহন করা হয়।চট্টগ্রামেও এ ধরনের সম্ভাবনা রয়েছ। শুধু বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নয়, পানি নিষ্কাশন এবং জলপথগুলো কীভাবে পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা যায়, সেই সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে চায় সরকার। এগুলো চট্টগ্রামের মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রামের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখবে, যোগ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ও বাণিজ্য এবং উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ইয়ানা ভ্যান ডার লিন্ডেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এ টি এম তারিকুল ইসলাম, ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠান তিনটি যৌথভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি উদ্ভাবনী সরকারি-বেসরকারি পানি সরবরাহ মডেল অনুসন্ধান ও পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন করবে।

সারাবাংলা/এসএন/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর