Saturday 15 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘চাঁদাকে সমঝোতা বললে অনিয়মই বৈধ হয়’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৫১ | আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৩০

তাসনিম জারা। ফাইল ছবি

ঢাকা: সড়কে চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি-র দেওয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেছেন, অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া হচ্ছে। এভাবে চাঁদা আদায়কে সমঝোতা বলা বাস্তবতাকে আড়াল করার শামিল।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এক স্ট্যাটাসে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা লিখেন।

তাসনিম জারা লিখেন, “নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে চালকদের বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীকে টাকা দিতে হয়। একে ‘সমঝোতা’ বলা হলে তা একটি অবৈধ প্রক্রিয়াকে বৈধতার মোড়ক দেওয়ার নামান্তর।”

বিজ্ঞাপন

তিনি লিখেন, “সড়কের চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বিষয়ে তার কিছু প্রশ্ন রয়েছে।” তার ভাষায়, “মন্ত্রী যেটিকে সমঝোতা বলছেন, তা বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পদ্ধতি। কোনো চালক নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে তাকে নির্দিষ্ট সংস্থাকে টাকা দিতেই হয়।”

তাসনিম জারা দাবি করেন, ‘এই অবৈধ লেনদেনের সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।’ বাসভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি সড়কের এই অলিখিত চাঁদাকে দায়ী করেন। পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অর্থ আদায়ের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যায় । শেষ পর্যন্ত এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয় যাত্রী ও ভোক্তাকেই।

সাবেক এনসিপি নেত্রী আরও বলেন, ‘মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের আধিপত্য থাকে।’ এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তাহলে কি এই অর্থ আদায় রাজনৈতিক ক্যাডারদের পৃষ্ঠপোষকতার একটি মাধ্যম? যদি তা না হয়, তবে এর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।’

সমাধানের প্রস্তাব দিয়ে তাসনিম জারা বলেন, ‘রাস্তায় টাকা তোলা বন্ধ করতে হবে। মালিক বা শ্রমিক সমিতির কল্যাণ তহবিলে অর্থের প্রয়োজন হলে তা আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আদায় করা উচিত।’ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কিংবা বার্ষিক রেজিস্ট্রেশন ফির সঙ্গে যুক্ত করে অর্থ সংগ্রহের পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরও লিখেন, ‘যে কোটি কোটি টাকা তোলা হচ্ছে তার পূর্ণাঙ্গ অডিট নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রকাশ করতে হবে এই অর্থ কার কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে।’ তার ভাষায়, ‘এই অর্থ চালক বা মালিকের ব্যক্তিগত নয়, এটি শেষ পর্যন্ত আসে সাধারণ মানুষের পকেট থেকেই।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সরকারের দায়িত্ব। অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তা জনমনে হতাশা সৃষ্টি করবে।”

সারাবাংলা/এফএন/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর