ঢাকা: সুবিধাবঞ্চিত নারী, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা, পুনর্বাসন, ন্যায়বিচার ও সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করতে তিন সরকারি অধিদফতরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদফতর, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলা বিষয়ক অধিদফতর এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদফতর অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন।
নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন, সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুব এবং মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক শায়লা শার্মিন জামান।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নারী, শিশু ও অবহেলিত শ্রেণির অধিকার যাতে কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে এবং কেউ যেন বিচারের অভাবে নিভৃতে না কাঁদে, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘যাদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য নেই, রাষ্ট্র তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেবে।’
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আইনি সহায়তা পাওয়া প্রত্যেক মানুষের মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার। যাদের আইনি লড়াই চালানোর আর্থিক সামর্থ্য নেই, রাষ্ট্র তাদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করবে—এই ধারণার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদফতর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। প্রান্তিক ও অসহায় জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’
সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়িত হলে তিন অধিদফতরের মধ্যে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় গড়ে উঠবে। এর ফলে সুবিধাবঞ্চিত নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সহিংসতার শিকার মানুষ একই ব্যবস্থার আওতায় আইনি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন সেবা পাবেন।
এ ছাড়া সমন্বিত রেফারেল ও কেস ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের ফলোআপ নিশ্চিত করা হবে। ১৬৬৯৯, ১০৯৮ ও ১০৯ হেল্পলাইনের মধ্যে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম আরও দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমঝোতার আওতায় মাঠপর্যায়ে সেবা বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে যৌথ কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌথ প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আইনি সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে এবং অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সরকারি সেবা পাওয়া সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।